দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথেও হাঁটছে পাকিস্তান। জ্বালানি খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে এই উদ্যোগে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে ইসলামাবাদে উদ্বেগ বাড়ছে। গত সোমবার (১৩ জুলাই) ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে হামলা চালানোর পর পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান ইরানকে সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইসলামাবাদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সৌদি আরবে যেকোনও আক্রমণকে তারা নিজেদের ওপর আক্রমণ হিসেবেই গণ্য করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়ার জন্য কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি সীমিত পরিসরের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। তবে পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তার মতে, কুয়েত এখন পাকিস্তানের কাছ থেকে সৌদি আরবের মতো একটি শক্তিশালী সামরিক প্রতিশ্রুতি আশা করছে। এর মধ্যে রয়েছে–স্থলভাগে কয়েক হাজার পাকিস্তানি সৈন্য মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সুবিধা।
আলোচনার বিষয়ে অবগত পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘কুয়েতের চাহিদা অনেক দীর্ঘ। তবে আমি একটি বিষয় পরিষ্কার করতে চাই, এই মুহূর্তে আমরা কোনও যুদ্ধরত (দেশে) সৈন্য মোতায়েনের কথা ভাবছি না এবং সেটি সম্ভবও নয়।’
এদিকে সূত্রমতে, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ করছে, যা পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের বর্তমান চুক্তির চেয়ে আলাদা। পাশাপাশি, বাহরাইনও একই ধরনের চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং জর্ডান অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে চুক্তি করতে আগ্রহী।
পাকিস্তান এসব দেশে সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগ নিশ্চিতের চেষ্টা করছে। যেমন কুয়েতের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা চায় ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের একটি সূত্র জানায়, পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ডেড ফুয়েল স্টোরেজ বা জ্বালানি মজুত ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাই করছে কুয়েত। এর মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান ডিজেল সরবরাহ চুক্তি আরও শক্তিশালী হবে।
সূত্র: রয়টার্স
কেএম