দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার হামলায় আবারও অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগে পড়েছেন ইরানের সাধারণ মানুষ। যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যে কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক শান্তির পর নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় অর্থনৈতিক সংকট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে এনক্রিপ্টেড বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে কথা বলা কয়েকজন ইরানি জানান, যুদ্ধের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, কাজের সুযোগ কমেছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
তেহরানের ৪০ বছর বয়সী আলোকচিত্রী সোমাইয়েহ জানান, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তার সাপ্তাহিক বাজারের খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা অর্থনীতি। প্রতিদিনই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একদিন যুদ্ধ, পরদিন শান্তি—আসলে কী ঘটবে আমরা জানি না। দুই দিন পরের পরিকল্পনাও করা সম্ভব হচ্ছে না।’
সরকারি প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সবাই আংশিক পরিচয় প্রকাশের শর্তে বক্তব্য দেন।
পশ্চিমাঞ্চলীয় কুর্দিস্তান প্রদেশের সানানদাজ শহরের ৩০ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী আমির জানান, যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে তিনি বিয়ে করেন। জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করে দেওয়ায় কাজ হারান তিনি। পরে সংযোগ ফিরলেও যুদ্ধ শুরু হওয়ায় আবারও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয় এবং তার কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
আমির বলেন, ‘আমি পুরোপুরি ঋণের বোঝায় ডুবে গিয়েছিলাম। দূর থেকে কাজ করি, তাই ইন্টারনেট ছাড়া আমার কোনো উপায় ছিল না। কয়েক দিন আগে নতুন কাজ পেলেও আবার সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’
একই শহরের ৩৪ বছর বয়সী মনোচিকিৎসক নাজানিন জানান, আগে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু জাতীয় মুদ্রার মূল্য ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এখন সেই সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘চাইলেও কয়েক মাসের জন্য অন্য দেশে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। আর পরিবারকে ছেড়ে থাকার চিন্তাও এখন আমাকে ভীত করে।’
নাজানিনের ভাষায়, বিমান হামলায় যদি নিজে বা পরিবারের কেউ নিহত হন—এমন আশঙ্কাই তাকে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
তেহরানের আলোকচিত্রী সোমাইয়েহও জানান, আগে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা থাকলেও এখন আর যেতে চান না।
তিনি বলেন, ‘আমার জীবন, বাড়ি আর পরিবার এখানেই। কয়েক মাসের জন্য গেলেও একদিন ফিরে আসতেই হবে। তাই আমি দেশ ছাড়তে চাই না।’
মাহাবাদ শহরের বাসিন্দা হিওয়া মনে করেন, যুদ্ধের কারণে বেড়ে চলা মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট ভবিষ্যতে সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
তার ভাষায়, ‘বর্তমান মূল্যস্ফীতির ধারা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় বিক্ষোভ ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না।’
চলতি বছরের জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পর থেকে ইরানজুড়ে গ্রেপ্তার, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েনের মাধ্যমে সরকার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
আমির জানান, ইরাকি কুর্দিস্তানে অবস্থানরত বাবার সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি অনিদ্রায় ভুগেছেন। তবে সব সংকটের মধ্যেও দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন না।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে চাই না। সীমান্ত খোলা থাকবে কি না, অন্য দেশে আশ্রয় পাওয়া যাবে কি না—এসব নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সিরিয়ার শরণার্থীদের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাই না।’
সূত্র: রয়টার্স
/অ