দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার পরও ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনায় তিনি জেনেছেন, ইরান এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।
লেভিটের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ফলে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং সে কারণেই তারা আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণ ছিল ইরান দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘন করেছে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তেহরান। তবে ইরান সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, মার্কিন জনমত প্রভাবিত করতে বিভিন্ন বিদেশি দেশ সক্রিয় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন লেভিট। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এ বিষয়ে একমত।
এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক পডকাস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ব্যর্থ করতে একটি ‘বিদেশি প্রভাব অভিযান’ পরিচালিত হচ্ছিল। তার ভাষ্য, ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা ওয়াশিংটনকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যদিও দেশটির সরকারের সবাই এতে জড়িত নন।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা সত্ত্বেও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয়, ইরানের বন্দরগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে আসা জাহাজগুলোর ওপর পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। লেভিট বলেন, ইরান চুক্তির শর্ত মানতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এই অবরোধ পুনর্বহাল করা হয়েছে।
তবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের বন্দর ছাড়া অন্য গন্তব্যে চলাচলকারী জাহাজের জন্য প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েন আছে।
এদিকে, ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে বোমা হামলায় ১৭৫ জনের বেশি মানুষ, যার মধ্যে বহু শিশু রয়েছে, নিহত হওয়ার ঘটনায় স্কাই নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হলেও সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান লেভিট।
তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদন তিনি পড়েননি এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানিয়েছেন, স্কুলে হামলার প্রতিবেদনটি তিনি এখনও দেখেননি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে মন্তব্য করবেন বলে জানান তিনি। ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য তিনি দেখেননি যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তার মতে, ওই অঞ্চলে একাধিক পক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে।
সূত্র- টিআরটি ওয়ার্ল্ড
যে আই