দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে বরখাস্ত করা নিয়ে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় এক বছরে দ্বিতীয় বড় রদবদলের সময় ফেদোরভ ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
জেলেনস্কির এই মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসে ৩৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিবিদ ও সংস্কারপন্থি ফেদোরভকে বাদ দেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি ইউক্রেনের তুলনামূলক দুর্বল সেনাবাহিনীকে আরও কার্যকর যুদ্ধ সক্ষম বাহিনীতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে ফেদোরভকে সরানোর কারণ জানতে দাবি জানান। একই সময়ে ইউক্রেনের বিমান যুদ্ধ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একজন শীর্ষ কমান্ডারও পদত্যাগ করেছেন।
জ্বালানি খাতের কর্মকর্তা সের্গেই কোরেৎস্কির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কো ফেদোরভের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন বলে আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ফেদোরভের
কিয়েভে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফেদোরভ জানান, জেলেনস্কির উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তিনি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগে বাধা দিয়েছেন এবং সমস্যাগুলোর সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন।
ফেদোরভ বলেন, ‘রাশিয়াকে কীভাবে পরাজিত করা যায়, তা নিয়ে কাজ করার পরিবর্তে তিনি দেশকে বিভক্ত করার পথ খুঁজেছেন।’
২০২৪ সালের শুরু থেকে সেনাপ্রধানের দায়িত্বে থাকা ৬০ বছর বয়সী সিরস্কি কঠোর নেতৃত্বশৈলীর কারণে এর আগে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। কিছু সেনাসদস্য অভিযোগ করেছেন, তার ব্যবস্থাপনার কারণে সেনাদের ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে।
তবে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
জেলেনস্কি এখনো ফেদোরভকে সরানোর বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। তবে বুধবার তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আরও ঐক্য থাকা প্রয়োজন।
ড্রোন যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ নেতার পদত্যাগ
ইউক্রেন বর্তমানে ২০২২ সালের শেষের পর যুদ্ধক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার তেল খাত ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত করেছে কিয়েভ।
তবে পূর্বাঞ্চলে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ইউক্রেনীয় সেনারা এখনো কঠিন লড়াই করছে। একই সঙ্গে স্থল সেনার ঘাটতি এবং রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকট রয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর উপপ্রধান ও ড্রোন যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা পাভলো ইয়েলিজারভ ফেদোরভের অপসারণের প্রতিবাদে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি এ সিদ্ধান্তকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য ‘বড় ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দপ্তর জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের এই রদবদল পর্যবেক্ষণ করছে। তবে মস্কোর দাবি, কিয়েভ ‘দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত’ নিয়ে শান্তি চুক্তির পথে না এলে নতুন প্রধানমন্ত্রী বা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পরিবর্তনে কোনো পার্থক্য হবে না।
জেলেনস্কির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ
কিয়েভে জেলেনস্কির কার্যালয়ের সামনে এক হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেন। তারা ‘লজ্জা’ স্লোগান দেন এবং ‘কেন?’ ও ‘রাশিয়ানরা উদযাপন করছে’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
গত বছরের জুলাইয়ে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা সীমিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল, তার সঙ্গে বৃহস্পতিবারের এই প্রতিবাদের মিল দেখা গেছে।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা উন্নতি চাই, অবনতি নয়।’ তার মতে, ফেদোরভ একজন কার্যকর ও আধুনিক ব্যবস্থাপক ছিলেন এবং ইউক্রেনের স্বাধীনতার লড়াইয়ে তার কাজের ফল দেখা গেছে।
ফেদোরভ এর আগে ইউক্রেনের প্রথম ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। আমলাতন্ত্র কমানো, ড্রোন যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়ানো এবং তথ্যভিত্তিক কৌশল গ্রহণের জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
তবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটায় সংস্কারের চেষ্টা করায় তিনি প্রশাসনের কিছু অংশের বিরোধিতার মুখে পড়েন। একই সঙ্গে সেনা নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে না পারায় সমালোচনাও হয়।
রোববার জেলেনস্কি সর্বশেষ মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা দিয়ে বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ‘নতুন করে পরিবর্তন’ প্রয়োজন।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদিত কোরেৎস্কি বলেছেন, তার সরকারের প্রধান কাজ হবে সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন দিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত করা, প্রতিরক্ষা খাত সম্প্রসারণ করা এবং রুশ হামলার মুখে আগামী শীতের প্রস্তুতি নেওয়া।
সূত্র: রয়টার্স
/অ