দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় সরিয়ে দেওয়ায় বৃহস্পতিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বিরল যুদ্ধকালীন বিক্ষোভ হয়েছে।
৩৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিবিদ ও সংস্কারপন্থি ফেদোরভ ছিলেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সব সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা সর্বশেষ সদস্য। ২০১৯ সালে জেলেনস্কি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সংসদ বৃহস্পতিবার তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কোকে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে ভোট দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ফেদোরভকে সরকারে অন্য কোনো দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ফেদোরভের সমর্থকরা বলছেন, চলতি বছরে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের অবস্থান শক্তিশালী করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে ড্রোন সংগ্রহ বাড়ানো এবং রাশিয়ার সামরিক ইউনিটগুলোর স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধা দেওয়ার মতো পদক্ষেপের জন্য তাকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়।
তবে বিশাল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীতে সংস্কারের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সঙ্গে মতবিরোধে জড়ান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক নিয়োগ ব্যবস্থার সমস্যাও সমাধান করতে পারেননি তিনি।
জেলেনস্কি তাকে সরানোর নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাননি। তবে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে আরও ‘ঐক্য’ প্রত্যাশা করেন।
কীভাবে ক্ষমতায় উঠেছিলেন ফেদোরভ?
ফেদোরভের জন্ম ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ভাসিলিভকা শহরে, যা বর্তমানে রাশিয়ার দখলে রয়েছে। তিনি কাছের জাপোরিঝিয়া শহরে বেড়ে ওঠেন, যেখানে বর্তমানে রুশ হামলা অব্যাহত রয়েছে।
তরুণ বিপণন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ফেদোরভকে জেলেনস্কি তার নির্বাচনী প্রচারণার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুক্ত করেন। ওই প্রচারণাই ২০১৯ সালের এপ্রিলে জেলেনস্কির বড় জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
‘স্মার্টফোনে রাষ্ট্র’ ধারণার উদ্যোক্তা
মাত্র ২৮ বছর বয়সে ফেদোরভ জেলেনস্কির প্রথম মন্ত্রিসভায় ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী হন। নতুন এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর নানা সংস্কার চালু করেন।
সোভিয়েত আমলের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে তার মন্ত্রণালয় ‘দিয়া’ নামে একটি অ্যাপ চালু করে। ইউক্রেনীয় ভাষায় যার অর্থ ‘কর্ম’। এটিকে ‘স্মার্টফোনে রাষ্ট্র’ হিসেবে প্রচার করা হয়। এই অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ি নিবন্ধন, বিয়ে ও বিচ্ছেদের মতো সরকারি বিভিন্ন সেবা নেওয়া যায়।
স্টারলিংক ও ড্রোনে ভূমিকা
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ফেদোরভ স্পেসএক্সের মালিক ইলন মাস্কের কাছে ইউক্রেনে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর আহ্বান জানান। পরে মাস্ক তা চালু করেন। বর্তমানে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক স্টারলিংক ব্যবহার করে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফেদোরভ স্টারলিংকের সঙ্গে কাজ করে রাশিয়ার অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধে ভূমিকা রাখেন।
যুদ্ধের শুরুতেই তিনি ‘ড্রোনের বাহিনী’ গড়ার পক্ষে প্রচারণা চালান। পরে ইউক্রেনের যুদ্ধকৌশলে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত হয়।
তার ডিজিটাল মন্ত্রণালয় এমন একটি ব্যবস্থা চালু করে, যেখানে ইউক্রেনীয় সেনারা রুশ সেনা বা সামরিক যানবাহনে হামলার ভিডিও প্রমাণ দিলে পয়েন্ট পেতেন এবং তা দিয়ে ড্রোনসহ অস্ত্র সংগ্রহ করা যেত।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে কী করেছিলেন?
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর ফেদোরভ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জর্জরিত বিশাল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে তথ্যভিত্তিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের পথে তিনি এমন একটি পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, যার মধ্যে রুশ বাহিনীর প্রতি মাসে ৫০ হাজার হতাহত ঘটানো, আকাশ হামলার সক্ষমতা কমানো এবং দেশটির অর্থনীতিকে দুর্বল করার লক্ষ্য ছিল।
তবে সেনা নিয়োগ ব্যবস্থা সংস্কার ও এটিকে আরও ন্যায্য করার বিষয়ে প্রতিশ্রুত প্রস্তাব তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেননি।
তিনি প্রায় ১০ লাখ সদস্যের সশস্ত্র বাহিনীতে চাকরির চুক্তি ব্যবস্থার সংস্কার ঘোষণা করেন এবং বিশেষ করে পদাতিক সেনাদের বেতন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তবে অনেক সেনাসদস্য অভিযোগ করেন, এসব সুবিধা নতুন যোগদানকারীদের বেশি উপকার করবে।
যারা যুদ্ধের শুরুতে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন, গুরুতর আহত হওয়া ছাড়া তাদের বাড়ি ফেরার সুযোগ এখনো সীমিত।
সূত্র: রয়টার্স
/অ