দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আলোচনা শুরু না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা আরও জোরদার করা হবে।
ট্রাম্প বলেন, “আগামী সপ্তাহে পরিস্থিতি তাদের জন্য আরও ভয়াবহ হবে। আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব, সব সেতু ধ্বংস করে দেব—যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা চতুর্থ দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে আসে। এর আগে তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের হুমকি দিলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বড় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির কথা জানান। তবে একই সময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবারও নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প এর আগেও ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। সে সময় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক জনগণ ও অবকাঠামোতে ইচ্ছাকৃত হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনেও বেসামরিক জীবনের জন্য অপরিহার্য স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, মঙ্গলবার রাতে মার্কিন আলোচকরা ইরানকে বার্তা দিয়েছেন, “চুক্তি করো, নইলে তোমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।”
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত সক্ষমতা দুর্বল করতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেন্টকমের দাবি, ইরানের হামলায় এ অঞ্চলের সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হানে। এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আটজন আহত হন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ওই দুটি ট্যাংকার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নৌ-চলাচল ব্যবস্থা বন্ধ রেখে মাইন পাতা রুট দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
বুধবার ভোরে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানের ড্রোন প্রতিহত করছে। একই সময়ে বাহরাইনেও বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে তেহরান দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ট্যাংকারেও হামলার দায় স্বীকার করেছিল ইরান।
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে। প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালির “অভিভাবক” এখন যুক্তরাষ্ট্র। তবে পরে তিনি বলেন, ২০ শতাংশ ফি আরোপের পরিকল্পনার পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বড় বিনিয়োগ চুক্তির পথেই এগোবেন।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আগের সমঝোতাকে কার্যত ভেঙে দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “সামরিক চাপ ও অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনা যাবে—এমন ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের ভুল।”
সূত্র: বিবিসি
এমএস/