দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত’ নামে পরিচিত একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পর থেকেই আলোচনায় এসেছে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এই স্থাপনাটি, যাকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত ‘পিকঅ্যাক্স পর্বত’ এমন একটি স্থাপনা, যেখানে মাটির গভীরে দুটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, শত শত মিটার পুরু গ্রানাইট শিলার নিচে এসব সুড়ঙ্গ তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাঙ্কার বিধ্বংসী শক্তিশালী বোমার আঘাত থেকেও সেগুলো সুরক্ষিত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সন্দেহ, তেহরান সেখানে একটি গোপন ও ঘোষণাবহির্ভূত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চায়, যা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য কৌশলগত বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
তবে ইরান শুরু থেকেই এ দাবি অস্বীকার করে আসছে। ২০২০ সালে স্থাপনাটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরানের দাবি, এটি কেবল উন্নত সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ও উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হবে।
সোমবার ‘দ্য হিউ হিউইট শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পিকঅ্যাক্স পর্বত ধ্বংস করব। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পিকঅ্যাক্স পর্বত খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে কোনো তৎপরতা দেখছি না। তাদের পারমাণবিক পরিস্থিতি খুব ভালো নয়। যখনই এ নিয়ে কিছু শুনি, তখনই আমরা সেটি উড়িয়ে দিই। তাই তারা এ নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে না। তবে খুব শিগগিরই সম্ভবত আমরা পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাব।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জন্য অঞ্চলটিতে আবারও অস্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, সোমবার রাতে টানা তৃতীয় দিনের মতো ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদকারী অস্ত্র ব্যবহার করে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং নৌ সক্ষমতা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কিশ, কেশম, আবু মুসা দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও জামসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, বন্দর আব্বাসে তিনটি এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী কিশ দ্বীপে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য দেয়নি।
মেহর সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওমিদিয়েহ শহরের কয়েকটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
নূর নিউজ জানিয়েছে, সোমবার রাতের হামলার পর কিশ দ্বীপের বন্দরে তিনটি নৌযানে আগুন ধরে যায়।
সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুদ্ধের অবসানে তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা ‘অবশ্যই সম্ভব’। তবে একই সময়ে ওয়াশিংটন নতুন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধও পুনর্বহাল করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
/অ