দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যেই হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছেন ইরানের আইনপ্রণেতারা। প্রায় পাঁচ মাস পর পুনরায় অধিবেশনে বসা পার্লামেন্টে সোমবার রাতে বিলটি উপস্থাপন করা হয়।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরার আশা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে গত মাসে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
অঘোষিত ওই অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্মরণে প্রতিশোধের প্রতীক লাল পতাকা প্রদর্শন করেন।
এ সময় কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতারা ‘হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা এবং টেকসই অগ্রগতির জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এটি পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে আলোচনা বা পাস হতে পারে।
পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদের লাল রেখা রক্ষায় আমরা অটল। এটি প্রথম পদক্ষেপ, সামনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিলটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে কয়েক মাস ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিরোধী আইনপ্রণেতারা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব আইনগতভাবে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
গত মে মাসে প্রকাশিত একটি খসড়ায় বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পতাকাবাহী জাহাজ, পাশাপাশি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর দৃষ্টিতে ‘বৈরী’ দেশ বা ব্যক্তির সামরিক, গোয়েন্দা বা অন্যান্য জাহাজকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া সব জাহাজকে আগাম অনুমতি নিতে হবে, বহন করা পণ্যের তথ্য জানাতে হবে এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। ‘পারস্য উপসাগর’ নাম ব্যবহার না করলে জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া বা পণ্যের মূল্যের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত জব্দ করার বিধানও ওই খসড়ায় ছিল।
এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ওমান উপকূলঘেঁষা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্যমূল্যের ২০ শতাংশ ফি নেওয়া হবে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালির ‘স্থায়ী অভিভাবক’ হিসেবে ইরান আরও ‘ন্যায্য’ হারে ফি নেবে।
এদিকে গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অন্তত ১১টি প্রদেশে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। হামলার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বন্দর আব্বাস এবং হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন শহর ও দ্বীপগুলোতে।
জবাবে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও ইরানের সেনাবাহিনী বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডানসহ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাবে ইরানের অর্থনীতিতেও চাপ বেড়েছে। মঙ্গলবার খোলা বাজারে দেশটির মুদ্রার বিনিময় হার প্রতি মার্কিন ডলারে প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার রিয়ালে নেমে এসেছে, যা মে মাসে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১৯ লাখ রিয়ালের কাছাকাছি। একই সঙ্গে তেহরান শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
/অ