দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে গত এক সপ্তাহে একের পর এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২ জুলাই দামেস্কের জাস্টিস প্যালেসের কাছে একটি ক্যাফেতে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হন। এরপর ৭ জুলাই ফোর সিজনস হোটেলের কাছে পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। ওই সময় দেশটি সফর করছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হন।
এসব ঘটনার পর রাজধানীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বহু বাসিন্দা বলছেন, দীর্ঘদিনের অস্থিরতায় তারা সহিংসতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়লেও সাম্প্রতিক হামলাগুলো আবারও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
আরব সেন্টার ফর কনটেম্পোরারি সিরিয়ান স্টাডিজের নিরাপত্তা বিশ্লেষক নাভভার সাবান বলেন, অনেকেই মনে করেছিলেন দামেস্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো সেই ধারণায় ধাক্কা দিয়েছে।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাব জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত আইএসআইএল (আইএস)-সংশ্লিষ্ট একটি সেলকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীকী ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছে হামলা চালিয়ে রাজধানীতে মানুষের নিরাপত্তাবোধ দুর্বল করে দেওয়াই হামলাকারীদের মূল উদ্দেশ্য।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়া নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিস্ফোরণগুলো দেশটির স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক নানার হাওয়াচ বলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। অন্যদিকে ‘দ্য সিরিয়া ক্যাম্পেইন’-এর নির্বাহী পরিচালক রাজান রশিদি বলেন, আদালত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের আশপাশে হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এমএস/