দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাশিয়ার প্রায় সব অঞ্চলে পেট্রোলের সরবরাহে ঘাটতি বা বিঘ্নের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক এলাকায় জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিংও চালু করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রাশিয়ার ৮৩টি অঞ্চলের মধ্যে ৫০টিরও বেশি এলাকায় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি সংকটের কথা স্বীকার করেছে। বাকি অনেক অঞ্চল থেকেও অনানুষ্ঠানিকভাবে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার খবর মিলেছে।
পূর্বাঞ্চলের ইরকুতস্ক ও ট্রান্সবাইকালসহ অন্তত তিনটি অঞ্চলে জরুরি অবস্থার এক ধাপ নিচের সতর্কাবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে অধিকৃত ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকটের কারণে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। এমনকি সাধারণ মানুষের কাছে জ্বালানি বিক্রিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বীকার করেছেন, দেশে কিছু জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে। তবে তার দাবি, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। একই সঙ্গে তিনি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন, যা ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কার্যকারিতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের তুলনায় এবার ইউক্রেনের হামলার ব্যাপ্তি ও ধারাবাহিকতা অনেক বেশি। এতে রাশিয়ার পেট্রোল উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে তেল শোধনাগারগুলো কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।
সংকটের প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। বিভিন্ন শহরের পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। মস্কোসহ বিভিন্ন শহরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি নিয়ে উত্তেজনা ও ঝগড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
সংকটকে কেন্দ্র করে কালোবাজারিও বেড়েছে। ইরকুতস্কে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগে কয়েকজনকে জরিমানা করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক অঞ্চলে বড় পাত্রে জ্বালানি বিক্রিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে সংকট মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে রুশ সরকার। তেল শোধনাগারের রক্ষণাবেক্ষণের সময় কমানো, ডিজেল রপ্তানি সীমিত করা এবং জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়া ভারত থেকেও পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে।
তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইউক্রেন যদি একই মাত্রায় ড্রোন হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে রাশিয়ার জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি অর্থনীতির ওপরও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/