দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরল পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। সোমবারের এ পরীক্ষাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। তাদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
চীনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ওয়াং শুয়েমেং এক বিবৃতিতে জানান, একটি সাবমেরিন থেকে ডামি ওয়ারহেড বহনকারী কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ধারিত জলসীমায় উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
চীনের দাবি, এটি তাদের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ। পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অবহিত করা হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় পাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, চীনের দ্রুত এবং অস্বচ্ছ পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ। একই সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে অর্থবহ আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আঞ্চলিক একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, কিরিবাতি ও টুভালুর একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে কিরিবাতি ও টুভালুর সামুদ্রিক সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে পড়ে।
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করায় তারা উদ্বিগ্ন। এ ধরনের পদক্ষেপকে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ংও এ পরীক্ষাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অশনি সংকেত বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, চীনের দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে স্বচ্ছতার অভাব উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
জাপানও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে টোকিও।
স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানও এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, চীনের এই পদক্ষেপ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে বেইজিংয়ের সম্প্রসারণবাদী নীতিরই বহিঃপ্রকাশ এবং এটি পুরো অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ধীরে ধীরে তার পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে সাবমেরিনভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে। ২০২৪ সালে ৪৪ বছর পর প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত প্রশান্ত মহাসাগরে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল দেশটি। এবারের পরীক্ষাকে সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/