দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোকযাত্রায় অংশ নিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তার ঘনিষ্ঠ ও অনুগত হিসেবে পরিচিত অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেল ‘দৌলত-ই বাহার’-এ শোকযাত্রায় অংশ নেওয়ার কয়েকটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক উত্থানে খামেনির বড় ভূমিকা ছিল। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে তিনি খামেনির প্রত্যক্ষ সমর্থন পান। ২০০৯ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও খামেনি প্রকাশ্যে তার পক্ষে অবস্থান নেন এবং জুমার খুতবাকে সমর্থনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন।
তবে ২০১০ সাল থেকেই দুই নেতার সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। তৎকালীন গোয়েন্দামন্ত্রী হেইদার মোসলেহিকে বরখাস্ত করাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরমে ওঠে।
আহমাদিনেজাদ মোসলেহিকে পদত্যাগে বাধ্য করলে খামেনি ডিক্রি জারি করে তাকে পুনর্বহাল করেন। এর প্রতিবাদে আহমাদিনেজাদ টানা ১১ দিন কর্মবিরতি পালন করে নিজ বাসভবনে অবস্থান নেন, যা ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এরপর থেকেই দেশটির ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০১৩ সালে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়েন। পরবর্তীতে খামেনির প্রভাবাধীন গার্ডিয়ান কাউন্সিল ২০১৭, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি দেয়নি।
এমন প্রেক্ষাপটে খামেনির শোকযাত্রায় আহমাদিনেজাদের উপস্থিতিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অনেকের মতে, এটি ইরানের রাজনীতিতে সম্ভাব্য নীরব পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
এমএস/