দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছে রাজধানী তেহরানে। সোমবার তেহরানের প্রধান সড়কগুলো শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন বহনকারী ট্রাককে ঘিরে হাজার-হাজার মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
দুই দিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে রাষ্ট্রীয়ভাবে মরদেহ রাখা হওয়ার পর প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শবযাত্রা ইমাম হোসেইন স্কয়ার থেকে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত অতিক্রম করে।
রোববার গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির কফিনের পাশে তার তিন ছেলে জানাজার নামাজে অংশ নিলেও, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, লাখো মানুষ শবযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা ও প্রতিশোধের প্রতীক লাল পতাকা। বিভিন্ন ব্যানারে ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’ স্লোগানের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া একটি সেতুতে টানানো ট্রাম্পের ছবিযুক্ত বিলবোর্ড লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীদের পাথর ছুড়তেও দেখা যায়। বিলবোর্ডে লেখা ছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বাবাকে হত্যা করেছে। তোমাদের আমরা ছাড়ব না।’
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকেও শবযাত্রায় অংশ নিতে দেখা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ছিল তার প্রথম বড় জনসম্মুখে উপস্থিতি। একই সময়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও সাধারণ শোকাহত মানুষের সঙ্গে পদযাত্রায় অংশ নেন।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, খামেনি ইরানিদের শিখিয়েছেন যে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ ও তাদের ঐক্য। তিনি ইরানের মর্যাদা, অগ্রগতি ও গৌরবের পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, ইসরায়েলই খামেনিকে হত্যা করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে ইসরায়েল ধ্বংসের পরিকল্পনা করলে ইরানের যেকোনো নেতারও একই পরিণতি হবে।
খামেনির শেষকৃত্য এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে দুই দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে দুই মাস সময় নির্ধারণ করেছে।
কাতার জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠকে দুই পক্ষ ইতিবাচক অগ্রগতি করেছে। খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে।
মঙ্গলবার ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমে জানাজা ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বুধবার ইরাকের কারবালা ও নাজাফে আনুষ্ঠানিকতা চলবে। সবশেষ বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে খামেনিকে দাফন করা হবে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/