দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ-এর একটি বড় তেল টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, এটি এমন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অর্থের জোগান দেয়।
শনিবার রাতে চালানো ওই হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের পাশাপাশি আশপাশের এলাকাও লক্ষ্যবস্তু ছিল। জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনীয় সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ড্রোন উড়ে যেতে এবং হামলার পর ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।
সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকসান্দর বেগলভ স্বীকার করেছেন, শহরটি ব্যাপক ড্রোন হামলার মুখে পড়েছিল এবং তেল টার্মিনালটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, টার্মিনালটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, যার বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য। একই সঙ্গে তারা রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ক্রনস্টাড-তেও হামলার দাবি করেছে। যদিও এ বিষয়ে রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
গভর্নর বেগলভের দাবি, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ৭২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, এসব হামলায় রাশিয়ার প্রায় ৪৩ শতাংশ তেল শোধন সক্ষমতা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। যদিও এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইউক্রেনের মতে, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্য, কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানি থেকেই যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের বড় অংশ আসে।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি আইনে সই করেছেন। সম্প্রতি ইউক্রেনের হামলার কারণে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি বিরলভাবে স্বীকারও করেন তিনি।
অন্যদিকে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা পুরোপুরি রুশ নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার রুশ দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে কিয়েভ। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর আন্দ্রি কোভালিওভ জানান, শহরটি এখনও ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, রুশ বাহিনীর ছোট ছোট পদাতিক দল কিছু এলাকায় অনুপ্রবেশ করলেও তাদের শনাক্ত করে ধ্বংস করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি পরে টেলিগ্রামে লেখেন, ‘কোস্তিয়ানতিনিভকা যদি সত্যিই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে পুতিন সেখানে এসে আমার সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তিনি সম্মুখসার অতিক্রম করবেন না। সত্যটা তার বক্তব্যের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।’
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শনিবার রাত ও সকালে ইউক্রেনের ছোড়া ৫০০টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ইউক্রেনের এসব হামলার জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে আগামী সপ্তাহে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে উভয় পক্ষই সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে শুভেচ্ছা বার্তাও পাঠিয়েছেন পুতিন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে ‘গঠনমূলক সম্পর্ক’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/