দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ায় ভারতীয় তেল কোম্পানি নায়ারা এনার্জি থেকে পেট্রোল রপ্তানি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইউক্রেনের হামলায় রুশ তেল শোধনাগারগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর দেশটিতে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ তথ্য সামনে এসেছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে শিল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল ভারতের নৌপথে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দুইটি ট্যাংকারে করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন করে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। আরও বলা হয়, নায়ারা এনার্জির উৎপাদিত জ্বালানি ট্রেডারদের মাধ্যমে রাশিয়ায় বিক্রি করা হয়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নিশ্চিত করেনি। ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, ভারতীয় কোম্পানিগুলো সরাসরি রাশিয়ায় জ্বালানি বিক্রি করছে না। তবে আন্তর্জাতিক ট্রেডিং চ্যানেলের মাধ্যমে রাশিয়া ভারতীয় উৎসের জ্বালানি কিনে থাকতে পারে—এটি ‘সম্ভব’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটিতে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। রাজধানী মস্কোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিং ও দীর্ঘ সারির পরিস্থিতিও দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত রুশ জ্বালানি অবকাঠামোতে ৫০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
নায়ারা এনার্জি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাটের ভাদিনারে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি তেল শোধনাগার পরিচালনা করে, যার দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল। ২০১৫ সালে আর্থিক সংকটে থাকা এসার থেকে এই শোধনাগারটি অধিগ্রহণ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নায়ারা কাঠামোগতভাবে রুশ মালিকানার প্রভাবাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি রসনেফট এবং অন্যান্য রুশ বিনিয়োগ সংস্থার বড় অংশীদারিত্ব রয়েছে এ কোম্পানিতে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত বছর নায়ারা এনার্জির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রুশ অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে উৎপাদিত পেট্রোলিয়াম পণ্য ইউরোপে রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয় এবং আর্থিক ও শিপিং পরিষেবায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার পর নায়ারা মূলত রুশ তেলনির্ভর হয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক ট্রেডারদের মাধ্যমে কাঁচা তেল আমদানি ও পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি করে আসছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি প্রবাহ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক এই তথ্য।
/অ