দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সরাসরি অনুমোদনে গত বছর চীনে রুশ সেনাদের জন্য গোপন সামরিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রাশিয়া ও চীনের অন্তত চারজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ইউরোপীয় দুই কর্মকর্তা এবং রয়টার্সের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধসংশ্লিষ্ট এই প্রশিক্ষণে দুই দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা রাশিয়া-চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিষয়টি ইউরোপে উদ্বেগ তৈরি করলেও বেইজিং এ ধরনের প্রশিক্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রয়টার্সের হাতে থাকা একটি গোপন রুশ নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলৌসভের জারি করা এক অভ্যন্তরীণ নির্দেশনার ভিত্তিতেই এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
নথি অনুযায়ী, ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে রুশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অংশ নিতে দেশটিতে যায়।
নভেম্বরে বেইজিংয়ের একটি সামরিক প্রতিষ্ঠানে তিন সপ্তাহব্যাপী পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণে তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র মোকাবিলা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রয়টার্সের দেখা নথিতে রুশ সেনাদের চীনা প্রশিক্ষকের কাছ থেকে পাঠ নেওয়া, একটি পারমাণবিক রিয়্যাক্টরের মডেল পর্যবেক্ষণ এবং রাসায়নিক ও তেজস্ক্রিয় দূষণ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধের প্রশিক্ষণ নেওয়ার বর্ণনা রয়েছে।
ইউরোপীয় এক কর্মকর্তা বলেন, তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্রসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এ ধরনের সহযোগিতা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতাকেই নির্দেশ করে।
রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেন সংকট নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’।
ইউক্রেন যুদ্ধে নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করে আসা চীন বলছে, তারা শান্তি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
গত মাসে রয়টার্স ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক নথির বরাতে জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের নভেম্বরে চীন প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দেয়, যাদের মধ্যে কয়েকজন পরে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেন। সে সময় ক্রেমলিন এ বিষয়ে মন্তব্য না করলেও পশ্চিমা গণমাধ্যমে ‘ভুয়া তথ্য’ প্রকাশের অভিযোগ তোলে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস গত ১৫ জুন জানান, ইইউ নিজস্ব সূত্রে এ প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করছে।
তবে চীন তার মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন অপপ্রচার’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর থেকে ইউরোপ রাশিয়াকে প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। একই সময়ে মস্কো ও বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
ব্রাসেলসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত শুধু অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, রাশিয়ার যুদ্ধের ‘গুরুত্বপূর্ণ সহায়তাকারী’ হিসেবে চীনকে মূল্যায়ন করা।
রয়টার্সের দেখা নথি অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে ২০২৫ সালের ২ জুলাই স্বাক্ষরিত এক চুক্তিতে রাশিয়ার মেজর জেনারেল রুস্তাম খুসাইনভ এবং চীনের সিনিয়র কর্নেল সান দাইউনের স্বাক্ষর রয়েছে।
আরেকটি নথিতে দেখা যায়, রুশ স্থলবাহিনীর উপপ্রধান কর্নেল জেনারেল রুস্তাম মুরাদভ রুশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে চীনের মেজর জেনারেল লি জিনসুন একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এছাড়া রুশ মেজর জেনারেল ভিটালি গেরাসিমভও চীনের বেংবু শহরে অনুষ্ঠিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
রুশ সামরিক নথিতে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিকের মূল্যায়নও করা হয়েছে। সেখানে চীনের উন্নত সরঞ্জাম, সিমুলেটর ব্যবহারের দক্ষতা এবং প্রশিক্ষকদের উচ্চতর তাত্ত্বিক জ্ঞানের প্রশংসা করা হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাবকে দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান আন্দ্রেই কার্তাপোলভ অবশ্য রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম আরটিভিআইকে বলেছেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণের খবর ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’। তার দাবি, রাশিয়ার সেনাবাহিনীর চীনের কাছ থেকে শেখার মতো কিছু নেই।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/