দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের প্রায় চার মাসের বিমান ও স্থল অভিযানে বহু ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রী ঘাসান সালামে।
ইউনেস্কো-তালিকাভুক্ত টাইর শহরের প্রাচীন স্থাপনায় একটি স্তম্ভের ওপর থাকা শীর্ষাংশ উড়ে যায়। একই এলাকায় মুসলিম ও খ্রিস্টানদের তীর্থস্থান ধ্বংসের পাশাপাশি নাবাতিয়েহ শহরের মামলুক যুগের বাজারও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সীমান্তবর্তী কয়েক শতাব্দী পুরনো গ্রামগুলোও সমতল করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলি সেনারা এখনো দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর একটি এলাকায় অবস্থান করছে, যেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না স্থানীয় প্রশাসন। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও জানা যায়নি।
তিনি বলেন, ওই নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় মধ্যযুগীয় বেউফোর্ট দুর্গসহ বহু প্রাচীন গ্রাম ও ধর্মীয় স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
টাইর ও নাবাতিয়েহসহ নিয়ন্ত্রণ এলাকার বাইরের ঐতিহাসিক স্থানগুলোতেও বিমান হামলার প্রভাব পড়েছে বলে জানান তিনি। টেবনিন শহরে ভারী বোমাবর্ষণে ক্রুসেডার যুগের দুর্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।
ইউনেস্কো এক বিবৃতিতে টাইর শহরের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং একে ‘বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা কেবল সামরিক প্রয়োজন বিবেচনায় অভিযান চালায় এবং বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে লেবাননের পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এই অভিযান দেশটির শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য স্থায়ীভাবে মুছে ফেলতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
/অ