দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়াশিংটনে শুক্রবার অনুষ্ঠিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একে ‘শুরুরও শুরু’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এটি প্রথম এবং সবচেয়ে কঠিন পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত এপ্রিল থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও স্বাক্ষরকারী।
চুক্তিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো অপসারণের জন্য একটি ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে একটি ত্রিপক্ষীয় সামরিক সমন্বয় কাঠামো গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
তবে চুক্তিতে দক্ষিণ লেবাননের দখল করা অঞ্চল থেকে ইসরায়েলকে তাৎক্ষণিকভাবে সরে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। বরং হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতি যাচাইয়ের পর ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথমে দুটি পরীক্ষামূলক এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবে। সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ ও তাদের অবকাঠামো অপসারণ নিশ্চিত হলে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদে নিজ এলাকায় ফিরতে পারবেন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেছেন, এই চুক্তির লক্ষ্য লেবাননের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এটি মূলত আগের বিভিন্ন চুক্তি ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের ধারাবাহিকতা, যেখানে পুরো লেবাননে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন চুক্তিটিকে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে প্রথম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এর মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত মানুষ রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের অধীনে নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
তবে ওয়াশিংটনের আলোচনায় হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি। সংগঠনটি বরাবরই নিঃশর্তভাবে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েলের ওপর আস্থা রাখা যায় না এবং লেবাননের সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে নিজেদের অস্ত্র রাখার বিকল্প নেই। দলটির সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন-সমর্থিত এই চুক্তি বাস্তবায়নে লেবাননের সেনাবাহিনী জোর প্রয়োগ করলে তা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাতে লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমলেও ইসরায়েল এখনো দক্ষিণ লেবাননের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং বিচ্ছিন্নভাবে হামলাও চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন এই কাঠামোগত চুক্তি শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর বাস্তবায়ন এখনো বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
/অ