দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রকাশ্য যুদ্ধ আপাতত থেমেছে। এক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংঘাত বন্ধে কার্যকর হওয়ায় উভয় পক্ষই তাৎক্ষণিক কিছু সুবিধা পাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি স্থায়ী শান্তি নয়; বরং ভবিষ্যতের কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা।
সমঝোতার সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে। সেখানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বুধবার প্রণালিটি দিয়ে ৭০টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক সময়ের দৈনিক ১০০টির বেশি জাহাজ চলাচলের তুলনায় এটি এখনো কম।
যদিও হরমুজ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। প্রণালির উত্তর করিডোর ব্যবহার করতে এখনো ইরানের অনুমতি প্রয়োজন হচ্ছে। পাশাপাশি মাঝামাঝি অংশে পাতা মাইনের কারণে জাহাজগুলোকে একটি নির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার একটি মালবাহী জাহাজ ইরানের ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ চলাকালে প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি শুরু করেছে ইরান। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতার পরপরই দেশটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ৩৮ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে এবং রপ্তানির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এখন ইরান প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে পারবে, যা যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি। একই সঙ্গে আগের মতো বড় অঙ্কের মূল্যছাড়ও দিতে হবে না।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে জব্দ থাকা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ ছাড়ের দাবি জানিয়ে আসছে। সমঝোতা স্মারকে এসব সম্পদ ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও, কবে এবং কীভাবে তা কার্যকর হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।
এ ছাড়া, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থে নয়, বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে গঠনের কথা বলা হয়েছে।
সমঝোতার অন্যতম বিতর্কিত বিষয় আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষকরা ইরানে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। তবে তেহরান বলছে, চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শন নিয়ে অতীতের মতো নতুন করে বিরোধ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কঠোর ও কার্যকর যাচাইব্যবস্থা ছাড়া কোনো স্থায়ী সমঝোতা কার্যকর হবে না বলেও মনে করছেন তারা।
এদিকে, সমঝোতায় লেবাননেও সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছে। তবে ইসরাইল স্পষ্ট জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে তারা সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। ফলে লেবাননকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুরো সমঝোতাই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত যুদ্ধ বন্ধ থাকলেও এই সমঝোতা এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। হরমুজ প্রণালি, পরমাণু পরিদর্শন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং লেবানন ইস্যুতে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই সমঝোতা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/