দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের জন্য ‘অত্যন্ত শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা’ কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।
শুক্রবার (২৬ জুন) ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আইএইএর পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন গ্রোসি। তার ভাষায়, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হতে পারে বলে বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা সতর্ক করে আসছে। তবে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
গ্রোসি বলেন, ‘ইরান জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা নয়। কিন্তু বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য যত দ্রুত সম্ভব আমাদের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইএইএর কাজ কারও উদ্দেশ্য নিয়ে বিচার করা নয়। তবে কোনো বিষয় শুধু মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে মেনে নেওয়াও সম্ভব নয়। আমাদের সব জায়গায় যাচাই করতে হবে।’
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকেই ওই স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের বিষয়টি বড় ধরনের বিরোধে পরিণত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত বছরের হামলার পর ইরান আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করলেও সেপ্টেম্বরে তারা পরিদর্শকদের পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দেয়। এরপর আইএইএর কর্মকর্তারা দেশটির কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন। তবে হামলার শিকার স্থাপনাগুলোতে এখনও পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, হামলার শিকার স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট উপকরণে প্রবেশের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামোর মধ্যে’ বিবেচনা করা হবে। তার দাবি, জাতিসংঘের পরিদর্শনের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ওপর নির্ভর করছে।
এমএস/