দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুক্তি সম্পর্কে সরাসরি অবগত একটি সূত্র। এরই মধ্যে এই তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিও পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলার মধ্যেই এই তথ্য সামনে এলো। তবে তহবিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্র জানিয়েছে, এই তহবিলের নাম হবে ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা এবং দুই পক্ষকে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া।
গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধের অবসান, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে।
তবে এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল কোনো ক্ষতিপূরণ বা পুনর্গঠন সহায়তা কর্মসূচি নয়। এতে কোনো সরকারি অর্থ বা অনুদান থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে এটি পরিচালিত হবে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদনশিল্প ও সরবরাহব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে এসেছে।
রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানিয়েছেন, শুরুতে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল তেহরান। তবে ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করলে এই নতুন তহবিল গঠনের ধারণা সামনে আসে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আঞ্চলিক দেশগুলো ঋণের নিশ্চয়তা দেওয়া, ক্রেডিট লাইন চালু করা বা সরাসরি অর্থায়নের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে অংশ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে মোবারাকেহ স্টিল কমপ্লেক্স, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত এবং চতুর্থ বৃহত্তম তেলের রিজার্ভ থাকা সত্ত্বেও, কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তবে ৯ কোটি ২০ লাখের বেশি শিক্ষিত জনসংখ্যা, শক্তিশালী শিল্পভিত্তি এবং পেট্রোকেমিক্যাল, খনিজ, কৃষি ও পর্যটন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা দেশটিকে বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, এই তহবিলের সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ মুক্ত করার আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো সম্পূর্ণ আলাদা প্রক্রিয়া হিসেবে পরিচালিত হবে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে ফেলা এবং কঠোর আন্তর্জাতিক তদারকি ব্যবস্থা মেনে নেয়, তাহলে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থনে গঠিত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিলের সুবিধা পেতে পারে।
তবে তহবিলটি কীভাবে পরিচালিত হবে কিংবা কারা এর প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ একাধিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/