দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সমঝোতায় পৌঁছালেও বড় রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তি একদিকে যেমন তাকে অজনপ্রিয় সংঘাত থেকে বের হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, অন্যদিকে নিজ দল, মিত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।
রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা
সোমবারের মধ্যেই রিপাবলিকান দলের কিছু কট্টরপন্থী নেতা এই সমঝোতাকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন এবং একে ‘কৌশলগত বিপর্যয়’ বলে আখ্যা দেন। অনেকে প্রশাসনের কাছে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশের দাবি জানান, যা তখনও প্রকাশ করা হয়নি।
রক্ষণশীল প্রভাবশালী ব্যক্তি এরিক এরিকসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘ট্রাম্প ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।’
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি যুদ্ধপন্থী অবস্থানের জন্য পরিচিত এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তিনি বলেন, প্রাথমিক সমঝোতা নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন, কারণ ইরানের ব্যাখ্যা এবং হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা এক নয়।
অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সমালোচনার জবাবে বলেন, ইরান অবিলম্বে তাদের জব্দ করা সম্পদ পাবে না; পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তবেই তা দেওয়া হবে।
অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও নির্বাচনী চাপ
রিপাবলিকানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী ও হস্তক্ষেপপন্থীদের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন দ্বন্দ্ব আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলটির জন্য রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।
সাধারণ আমেরিকানদের জন্য সীমিত স্বস্তি
বিশ্লেষকদের মতে, গ্যাসের দাম কিছুটা কমলেও তা যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরতে সময় লাগবে। প্রায় ২০ শতাংশ বৈশ্বিক তেল প্রবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে, যা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে শুক্রবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে মাস বা বছর লেগে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
একটি বাজার বিশ্লেষণ সংস্থার জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিস্থিতি ফিরতে বাস্তবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
রাজনৈতিক সুবিধা অনিশ্চিত
জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৭০ শতাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তুষ্ট। ফলে জ্বালানি খরচ কমার সম্ভাব্য সুবিধা আসন্ন নির্বাচনে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে নাও পারে।
ওবামার চুক্তির সঙ্গে তুলনা ও চাপ
ট্রাম্প বহুবার ইরান নিয়ে পূর্ববর্তী প্রশাসনের পারমাণবিক চুক্তিকে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেছেন। এখন নিজেই সমঝোতার পথে যাওয়ায় তিনি রাজনৈতিকভাবে নতুন সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন।
চুক্তির বিস্তারিত এখনো অস্পষ্ট হওয়ায় আগের সমঝোতার সঙ্গে তুলনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংঘাত পুনরায় উসকে ওঠার আশঙ্কা
আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো—সংঘাত আবারও শুরু হতে পারে, যা তেলের দাম পুনরায় বাড়িয়ে দিতে পারে। ইসরায়েলি নেতৃত্ব এই সমঝোতায় অসন্তুষ্ট বলে জানা গেছে, তারা এটিকে কৌশলগত ছাড় হিসেবে দেখছে।
একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা সংঘাত চলমান থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন
এই যুদ্ধ এবং সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও চাপ তৈরি করেছে। ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল হয়েছে, আর মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররাও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে নতুনভাবে ভাবছে।
সমঝোতা টিকে থাকা নিয়েই অনিশ্চয়তা
বর্তমান সমঝোতা মূলত একটি প্রাথমিক কাঠামো, যেখানে জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকায় চূড়ান্ত সমঝোতা অর্জনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি চুক্তি ভেঙে যায়, তাহলে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে; আর যদি সফলভাবে চুক্তি হয়, তবে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
/অ