দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আসন্ন নির্বাচনের আগে আর্মেনিয়ার পশ্চিমমুখী রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা ঠেকাতে রাশিয়া গোপন প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা জোরদার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা ও সরকারি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মস্কো বিরোধী প্রার্থীদের পক্ষে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো এবং ভোট প্রভাবিত করতে রাশিয়ায় বসবাসরত আর্মেনীয়দের বড় একটি অংশকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছে।
দক্ষিণ ককেশাসের দেশ আর্মেনিয়ার আগামী ৭ জুনের নির্বাচনের আগে এই তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করায় রাশিয়ার প্রভাব কমে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে পাঁচজন পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও নথির বরাতে বলা হয়, রাশিয়ার পরিকল্পনায় রয়েছে প্রো-রাশিয়া প্রার্থীদের পক্ষে অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং ভোটের সময় রাশিয়ায় থাকা আর্মেনীয়দের দেশে এনে ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার চেষ্টা। যদিও প্রবাসী আর্মেনীয়রা বিদেশ থেকে ভোট দিতে পারেন না, তবে অভ্যন্তরীণ উপস্থিতি বাড়িয়ে ভোটের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় এক লাখ ভোটারকে স্থানান্তরের জন্য রাশিয়ার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় পাঁচ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন নীতিনির্ধারকরা আর্মেনিয়ার পশ্চিমমুখী অবস্থানকে নিজেদের স্বার্থের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশটি দীর্ঘদিন রাশিয়া-নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জোটের ঘনিষ্ঠ সদস্য ছিল।
সূত্র আরও জানায়, ২০২৪ সালে আর্মেনিয়া রাশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটে অংশগ্রহণ স্থগিত করে এবং পরে ইউরোপীয় জোটের প্রধানকে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানায়। এর মাধ্যমে পশ্চিমা সামরিক জোটের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এই পরিবর্তনের ফলে মস্কো আর্মেনিয়ার ওপর চাপ বাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। রাশিয়া দেশটিতে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সতর্ক করেছে এবং কিছু আর্মেনীয় পণ্যের আমদানি সীমিত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি আর্মেনিয়া সফরে গিয়ে একটি খনিজ চুক্তি এবং একটি পরিবহন করিডর সংক্রান্ত সমঝোতা স্বাক্ষর করেন। এই করিডর আর্মেনিয়ার মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য পথ তৈরি করতে পারে, যা রাশিয়ার প্রভাব আরও কমিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে নিকোল পাশিনিয়ানের পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া ইতোমধ্যে অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। একটি ঘটনায় বলা হয়, রাশিয়া-সমর্থিত নেটওয়ার্ক আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ ছড়িয়েছে।
কিছু নথিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ায় বসবাসরত আর্মেনীয়রা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদি তাদের ভোট প্রভাবিত করা যায়। এ বিষয়ে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সমন্বয় ও প্রস্তুতির কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং রাশিয়া বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্মেনিয়ার এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি ককেশাস অঞ্চলে রাশিয়া ও পশ্চিমা শক্তির প্রভাব বিস্তারের নতুন প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
/অ