দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী ছয় থেকে নয় মাস ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরানোর সময় হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারলে শান্তি আলোচনায়ও ইউক্রেন শক্ত অবস্থানে যেতে পারবে।
ইউক্রেনের তৃতীয় সেনা কোরের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আন্দ্রিই বিলেৎস্কি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী এখন ক্লান্ত এবং বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনের সক্ষমতা অনেকটাই হারিয়েছে।
খারকিভ অঞ্চলের একটি গোপন ভূগর্ভস্থ স্থানে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আগামী ছয় থেকে নয় মাস যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, আগামী ছয় মাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
তার মতে, ইউক্রেন যদি কয়েক মাস ধরে যুদ্ধক্ষেত্রে চাপ ধরে রাখতে পারে, তাহলে সম্মুখসারিতে আবারও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দোনেৎস্ক অঞ্চলের যে অংশ এখনো রাশিয়ার দখলে যায়নি, সেটি দখলের পরিকল্পনা থেকেও মস্কোকে সরে আসতে বাধ্য করা যেতে পারে।
দোনেৎস্ক অঞ্চল নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো শান্তি আলোচনার বড় বাধা হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলা আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ রাশিয়া পুরো অঞ্চলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়, আর ইউক্রেন দখলমুক্ত না হওয়া এলাকা ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বিলেৎস্কি বলেন, ‘আমাদের এমন কিছু দিক নির্ধারণ করতে হবে, যেখানে অবস্থান আরও শক্তিশালী করা যাবে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থান নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হবে। এরপরই আমরা দুর্বল নয়, বরং শক্ত অবস্থান থেকে রাশিয়ার সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা বলতে পারব।’
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া বিজয় অর্জন করবে এবং তার ধারণা যুদ্ধ শেষের দিকেই এগোচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সপ্তাহে দাবি করেন, ২০২৬ সালে ইউক্রেন প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনর্দখল করেছে। যদিও এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ফিনল্যান্ডভিত্তিক সংঘাত বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাক বার্ডের বিশ্লেষক জন হেলিনও মনে করেন, রুশ বাহিনীর মধ্যে ক্লান্তি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তবে একই সময়ে ইউক্রেন জনবল সংকটের মুখেও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, ইউক্রেনের সংকট চরমে পৌঁছানোর আগেই রুশ বাহিনী বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়বে।’
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক যুদ্ধ বিশ্লেষণ সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ সোমবার জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন যুদ্ধের স্থবির অবস্থাকে সক্রিয়ভাবে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে এবং শিগগিরই সীমিত আকারে সাঁজোয়া আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগত শহর কোস্তিয়ানতিনিভকায় বর্তমানে তীব্র লড়াই চলছে। শহরটি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। এটি দখল করতে পারলে পুরো দনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা আরও সহজ হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিলেৎস্কি জানান, তার বাহিনী বর্তমানে স্লোভিয়ানস্ক ঘিরে থাকা প্রতিরক্ষা অবস্থান দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে এবং রুশ বাহিনীকে সরাসরি আক্রমণে বাধ্য করছে। এতে রাশিয়ার সেনাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের হতাহতের ঘটনাও বাড়ছে।
তিনি বলেন, জনবলের ঘাটতির কারণে রুশ বাহিনী এখন আর এক বছর আগের মতো দ্রুত অগ্রসর হতে পারছে না। সাম্প্রতিক সাফল্য থেকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টানা না গেলেও ইউক্রেন মাঝারি পাল্লার হামলা অব্যাহত রেখে সতর্কভাবে অগ্রসর হতে পারবে।
যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থায় রাশিয়া বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিশেষ করে উপগ্রহনির্ভর ইন্টারনেট সেবা ব্যবহারে কড়াকড়ির কারণে রুশ বাহিনী যোগাযোগে পিছিয়ে পড়ছে বলে তার মন্তব্য।
তবে সামরিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় দুই পক্ষ প্রায় সমানে সমান অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি। তার দাবি, চালকবিহীন স্থলযান ও ভারি বোমাবাহী ড্রোন প্রযুক্তিতে ইউক্রেন এগিয়ে থাকলেও, তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহারে রাশিয়া এগিয়ে রয়েছে।
বিলেৎস্কি বলেন, তার সেনা কোর নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক যোদ্ধার পরিবর্তে ড্রোন ও রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ বছরই যুদ্ধের নতুন এক পরিবর্তন দেখা যাবে। আমাদের সেনা কোর সেই পরিবর্তনের বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠবে।’
/অ