দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর কিয়েভ অঞ্চলে অন্যতম বড় হামলায় নতুন ধরনের হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ‘ওরেশনিক’ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা একাধিক প্রচলিত বা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। এর গতি ও গতিপথ এতটাই জটিল যে, ইউক্রেনের বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এটি ঠেকানো প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল রাশিয়া।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি মধ্য ইউক্রেনের বিলা সেরকভা শহরের কাছে আঘাত হানে। তিনি বলেন, ‘তারা সত্যিই উন্মাদ হয়ে গেছে। রাশিয়াকে এর শাস্তি পেতেই হবে।’
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা দাবি করেছেন, নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রে ডামি ওয়ারহেড ছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার ‘রাজনৈতিক ভয়ভীতি প্রদর্শন’ এবং ‘বেপরোয়া পারমাণবিক ঝুঁকির’ শামিল।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো রাশিয়ার এই হামলাকে যুদ্ধের নতুন ‘উত্তেজনাকর ধাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। একইভাবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মের্তজ একে ‘বেপরোয়া উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আখ্যা দিয়ে ইউক্রেনের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাতভর রাশিয়া ৬০০ ড্রোন ও ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর মধ্যে ৬০৪টি লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
জেলেনস্কি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে কিয়েভ। মূল লক্ষ্যই ছিল রাজধানী।’
এই হামলার আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের একটি হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তার দাবি, রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্ক শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একটি কলেজ ডরমিটরিতে প্রাণহানি ঘটে।
রুশ বার্তা সংস্থা টাস জানিয়েছে, ওই হামলায় নিহত শিশুর সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। যদিও ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা কেবল সামরিক স্থাপনা ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত অবকাঠামোতে হামলা চালায়।
ইউক্রেন দাবি করেছে, শুক্রবার তারা স্টারোবিলস্ক এলাকায় রুশ ড্রোন ইউনিট ‘রুবিকন’-এর একটি সদর দপ্তরে হামলা চালায়। ২০২৪ সালে গঠিত এই ইউনিটকে রাশিয়ার উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়।
রাতভর হামলার সময় কিয়েভ মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ৬২ বছর বয়সী নাতালিয়া জভারিচ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি ছিল ভয়াবহ এক রাত। বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে আমরা হেঁটেছি, আকাশে জিনিস উড়তে দেখেছি। তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এখানে বসে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি।’
এদিকে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মস্কোর ওই বৃদ্ধ শাসক যেন “শান্তি” শব্দটি উচ্চারণ করতে বাধ্য হয়, সে জন্য সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।’
সূত্র: সিএনএন
এমএস/