দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তুলসি গ্যাবার্ড। শুক্রবার তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং জানান, তার স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামস বিরল ধরনের হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে সময় দিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পদত্যাগপত্রে গ্যাবার্ড প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, গত দেড় বছর ধরে জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ এবং তার প্রতি আস্থা রাখার জন্য তিনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।
তিনি লেখেন, ‘এই কঠিন লড়াইয়ে আমি বিবেকের তাড়নায় তাকে একা রেখে এত সময়সাপেক্ষ ও চাপপূর্ণ দায়িত্বে থাকতে পারি না।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ওভাল অফিসে এক বৈঠকে গ্যাবার্ড ট্রাম্পকে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান। আগামী ৩০ জুন থেকে তার পদত্যাগ কার্যকর হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বর্তমান উপ-জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান অ্যারন লুকাস ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। লুকাস সাবেক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, গ্যাবার্ড ‘দারুণ কাজ’ করেছেন। তবে তার স্বামীর ক্যানসার ধরা পড়ার পর পরিবারের পাশে থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এদিকে, বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র দাবি করেছে, গ্যাবার্ডকে হোয়াইট হাউস কার্যত পদত্যাগে বাধ্য করেছে। যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ডেভিস ইংল অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, স্বামীর অসুস্থতার কারণেই গ্যাবার্ড প্রশাসন ছাড়ছেন।
ইরান ইস্যুতে গ্যাবার্ডের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের মতপার্থক্যের ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল। মার্চ মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর প্রশ্নে গ্যাবার্ড তার তুলনায় ‘কম কঠোর’ অবস্থানে ছিলেন।
এপ্রিল মাসে একাধিক সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে গ্যাবার্ড তার পদ হারাতে পারেন। সে সময় হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গ্যাবার্ডের প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ বাড়ছিল। আরেকটি সূত্র জানায়, সম্ভাব্য বিকল্পদের নিয়েও প্রেসিডেন্ট ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।
জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে গোয়েন্দা কার্যক্রমে গ্যাবার্ডের তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তদারকির জন্য এই দপ্তর গঠন করা হয়।
হাওয়াই ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য হিসেবে গ্যাবার্ড ২০০৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইরাকে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি কর্মকর্তা হন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা রিজার্ভে যোগ দেন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
কংগ্রেস ছাড়ার পর তিনি রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে সমর্থন দেন এবং রিপাবলিকান দলে যোগ দেন।
রাশিয়ার বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইউক্রেনে হামলার জন্য ন্যাটোকে দায়ী করার অভিযোগে এবং সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সঙ্গে ২০১৭ সালে দামেস্কে সাক্ষাৎ করার কারণে তিনি দ্বিদলীয় সমালোচনার মুখে পড়েন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেন, গ্যাবার্ড তার পদ ব্যবহার করে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির প্রমাণহীন দাবিকে সমর্থন দিয়েছেন।
গত জুনে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না—গ্যাবার্ডের এমন মূল্যায়ন ভুল ছিল। এরপর থেকেই হোয়াইট হাউসের সঙ্গে তার দূরত্বের বিষয়টি সামনে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার সামরিক অভিযান, ইরান যুদ্ধ এবং কিউবা ইস্যুসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় গ্যাবার্ডকে বাইরে রাখা হয়েছিল।
সূত্রটি আরও জানায়, গ্যাবার্ডের নেতৃত্বাধীন বিশেষ কার্যদলের কর্মকাণ্ডও হোয়াইট হাউসের অসন্তোষের কারণ ছিল। দলটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত নথি প্রকাশ, নির্বাচনী যন্ত্রের নিরাপত্তা তদন্ত এবং বৈশ্বিক মহামারির উৎস অনুসন্ধানের কাজ করছিল।
এছাড়া গত আগস্টে গ্যাবার্ড ৩৭ জন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিল করেন। অভিযোগ ছিল, তারা বিদেশে গোপনে কর্মরত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করেছিলেন।
গ্যাবার্ড গোয়েন্দা সংস্থার রাজনৈতিক প্রভাব দূর করার উদ্যোগ হিসেবে একাধিক পদক্ষেপ নেন এবং সাবেক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা প্রধান জন ব্রেনানসহ কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তার নিরাপত্তা ছাড়পত্র বাতিলের অনুমোদন দেন।
সিনেট গোয়েন্দা কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য মার্ক ওয়ার্নার বলেন, জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের পদটি এখন অতিরিক্ত রাজনৈতিক হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও অভিজ্ঞ একজন গোয়েন্দা পেশাজীবীর।’
তার মতে, জাতীয় গোয়েন্দা প্রধানের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত বৈদেশিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়া, অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়া নয়।
/অ