দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি ‘উচ্চ’ থেকে বাড়িয়ে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
শুক্রবার এক হালনাগাদ বিবৃতিতে সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. তেদরোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানান, আফ্রিকার বিস্তৃত অঞ্চলে ঝুঁকির মাত্রা ‘উচ্চ’ হলেও বৈশ্বিক পর্যায়ে তা এখনও ‘নিম্ন’ রয়েছে।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল ‘বুন্ডিবুগিও’ প্রজাতির ইবোলার কোনো কার্যকর টিকা এখনো অনুমোদিত হয়নি। এ ভাইরাসে আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মারা যায়। এখন পর্যন্ত কঙ্গোকেন্দ্রিক এই প্রাদুর্ভাবে ১৭৭ জনের সন্দেহজনক মৃত্যু এবং ৭৫০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা নতুন একটি টিকা তৈরির কাজ করছেন, যা আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে গবেষকরা বলছেন, টিকাটি কার্যকর হবে কিনা তা এখনই নিশ্চিত নয়। প্রাণী ও মানুষের ওপর পরীক্ষার পরই এর কার্যকারিতা সম্পর্কে জানা যাবে।
এ ছাড়া বুন্ডিবুগিও প্রজাতির বিরুদ্ধে আরেকটি পরীক্ষামূলক টিকাও তৈরি হচ্ছে, তবে সেটি পরীক্ষার উপযোগী হতে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে।
জেনেভায় শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে ড. তেদরোস বলেন, ‘আমরা এখন জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকির মূল্যায়ন অত্যন্ত উচ্চ, আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নিম্ন হিসেবে নির্ধারণ করছি।’
তিনি জানান, কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ৮২টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডায়ও বুন্ডিবুগিও প্রজাতির দুটি সংক্রমণ ও একজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। তবে তেদরোসের ভাষ্য, পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল এবং আক্রান্তরা কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করে সেখানে গিয়েছিলেন।
ইবোলা একটি বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত ফলখেকো বাদুড়সহ বিভিন্ন প্রাণীতে এ ভাইরাস পাওয়া যায়। আক্রান্ত প্রাণী ধরতে বা খাওয়ার মাধ্যমে কখনও কখনও মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
গত রোববার ডব্লিউএইচও এ পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও এটিকে এখনো মহামারি হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।
ড. তেদরোস আরও বলেন, সংঘাতকবলিত অঞ্চলে সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা ইবোলা মোকাবিলার কার্যক্রম ব্যাহত করছে। জনগণের আস্থা অর্জন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি পূর্ব কঙ্গোর একটি হাসপাতালে এক রোগীর মরদেহ সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতালটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/