দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো) ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের বিস্তার ও সংক্রমণের গতি ‘গুরুতর উদ্বেগের’ কারণ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস।
মঙ্গলবার জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সংঘাতকবলিত ও দুর্গম অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের কাছে স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ডব্লিউএইচও প্রধান জানান, এ পর্যন্ত ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ৫০০টির বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
গত শনিবার টেড্রোস এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। জরুরি কমিটি আহ্বানের আগেই ডব্লিউএইচও প্রধানের এমন ঘোষণা এটিই প্রথম।
তিনি বলেন, কয়েকটি উদ্বেগজনক কারণে এই প্রাদুর্ভাব আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা, ডিআর কঙ্গোর গোমা ও বুনিয়ার মতো শহরাঞ্চলেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
টেড্রোস জানান, স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, যা হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডিআর কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে চলমান সংঘাত পরিস্থিতি গত দুই মাসে আরও তীব্র হয়েছে। মে মাসের শুরুতে এই এলাকাতেই প্রথম ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। সংঘাতের কারণে সেখানে ব্যাপক জনসংখ্যা স্থানান্তর ঘটেছে।
‘এক লাখের বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় মানুষের চলাচল সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে,’ বলেন তিনি।
ডব্লিউএইচও প্রধান জানান, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডায় সহায়তার জন্য দুর্যোগ মোকাবিলা দল পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে এই রোগ ছড়ায়। দূষিত বস্তু বা মৃতদেহ থেকেও ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।
রোগটির লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা এবং কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া। কিছু রোগীর শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, বান্ডিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে সম্ভাব্য চিকিৎসা হিসেবে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি থেরাপি উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।
ডব্লিউএইচওর কঙ্গো প্রতিনিধি ডা. অ্যান আনসিয়া জানান, শুরুতে স্থানীয় পরীক্ষাগারে রোগ শনাক্তে বিলম্ব হয়েছিল। কারণ প্রথম রোগীর নমুনা বেশি পরিচিত জায়ার প্রজাতির ইবোলা হিসেবে নেগেটিভ আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি জানিয়েছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জিনগত বৈশিষ্ট্য ২০০৭ ও ২০১২ সালের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে মিল রয়েছে। ফলে এই ভাইরাস শনাক্তে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও পরীক্ষাসামগ্রী স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/