দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পানামা খালকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ চীনের বিরুদ্ধে পানামার ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে।
বলিভিয়া, কোস্টারিকা, গায়ানা, প্যারাগুয়ে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং যুক্তরাষ্ট্র এক যৌথ বিবৃতিতে পানামার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, দেশটির সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর চীন ‘টার্গেটেড অর্থনৈতিক চাপ’ সৃষ্টি করেছে।
গত জানুয়ারির শেষদিকে পানামার সুপ্রিম কোর্ট হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিকে হাচিসনের সহযোগী কোম্পানিকে দেওয়া বালবোয়া ও ক্রিস্টোবাল বন্দর পরিচালনার চুক্তি বাতিল করে। আদালত এ চুক্তিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।
এরপর মার্চ মাসে চীন প্রায় ৭০টি পানামা-নিবন্ধিত জাহাজ আটকে দেয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল মেরিটাইম কমিশন। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা অনেক বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ সামুদ্রিক বাণিজ্যকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার স্পষ্ট প্রচেষ্টা এবং আমাদের অঞ্চলের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পৃথকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা পানামার পাশে আছি। তাদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টা সবার জন্য হুমকি।’
অন্যদিকে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বুলিং’ আচরণের অভিযোগ তোলে এবং লাতিন আমেরিকায় নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালানোর কথা বলে। পাশাপাশি পানামার আদালতের রায়কে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করে।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, চীন বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানি মার্স্ক ও মেডিটেরেনিয়ান শিপিং কোম্পানির ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে, যাদের সম্প্রতি বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পানামা খাল ইস্যুতে দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে সামুদ্রিক পথ এখন ক্রমেই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে। প্রয়োজন হলে বিভিন্ন রাষ্ট্র এসব রুট নিয়ন্ত্রণ বা ব্যাহত করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এমএস/