দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো ব্যাপক চাপে রয়েছে। এসব হামলার ফলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্রের মজুদ কমে গেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও চাপে পড়েছে।
নতুন অনুমোদিত বিক্রির মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের জন্য ৯৯২ মিলিয়ন ডলারের নির্ভুল লক্ষ্যভেদী উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থা (এপিকেডব্লিউএস) এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম।
কুয়েত ২.৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম কিনতে পারবে।
এছাড়া কাতারকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এপিকেডব্লিউএস এবং প্যাট্রিয়ট বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় মজুদ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য ১৪৮ মিলিয়ন ডলারের এপিকেডব্লিউএস কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার একাধিক ঘোষণায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এই বিক্রির ক্ষেত্রে ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি প্রয়োজন’ রয়েছে—এমন বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় কংগ্রেসীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য আকাশপথে আসা হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম উন্নত সামরিক প্রযুক্তি। অন্যদিকে এপিকেডব্লিউএস সাধারণ রকেটকে নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তর করতে সক্ষম।
কুয়েতের জন্য অনুমোদিত ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম দেশটির রাডারভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডানের জন্য পৃথকভাবে ১৬.৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই চুক্তিতে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার সিস্টেম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য এফ-১৬ যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে সম্ভাব্য চীনের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে। গত মাসে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদ যথেষ্ট হলেও চীনের মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় আরও মজুদ প্রয়োজন হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধ শুরুর আগেই অস্ত্রের মজুদ পর্যাপ্ত ছিল না, আর বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমকে সীমিত করতে পারে।
/অ