দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর আরোপিত সব ধরনের আকাশপথে চলাচল নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ শনিবার এ ঘোষণা দেয়।
এক বিবৃতিতে আমিরাতের জেনারেল সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশের আকাশসীমায় সব ধরনের বিমান চলাচল এখন ‘স্বাভাবিক অবস্থায়’ ফিরে এসেছে। অপারেশনাল ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির সার্বিক মূল্যায়নের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘোষণা দুবাই ও আবুধাবির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর একটি দুবাই এবং আবুধাবি—দুই শহরই ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। তেহরানের পাল্টা হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনায়।
সংঘাতের শুরুতে আমিরাতসহ অন্তত আটটি দেশ আকাশসীমা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে ছিল ইরাক, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত। ইউএই’র এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাই সাময়িকভাবে সব ফ্লাইট স্থগিত করে এবং এতিহাদ আবুধাবি থেকে সব যাত্রা বন্ধ রাখে।
বিমান চলাচল বিষয়ক তথ্যপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্যমতে, সংঘাতের শুরুর দিনগুলোতে অঞ্চলে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমিরাত প্রথমে ‘অস্থায়ী ও আংশিক’ আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে এবং মার্চে ধাপে ধাপে তা খুলতে শুরু করে। ১ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত আংশিক চালুর সময়ে দেশটির বিমানবন্দরগুলো ১৪ লাখ যাত্রী পরিবহন করে এবং ৭ হাজার ৮৩৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। সে সময় জাতীয় এয়ারলাইন্সগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিকের ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছায়।
গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির ফলে পরিস্থিতি শান্ত হয়, যা পূর্ণাঙ্গভাবে আকাশপথ চালুর পথ প্রশস্ত করে।
এদিকে, আঞ্চলিক বিমান চলাচল খাতেও পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত মিলছে। কাতার এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, আগামী ১০ মে থেকে তারা ইরাকের তিনটি শহরে ফ্লাইট পুনরায় চালু করবে। পাশাপাশি জুনের মাঝামাঝি থেকে ছয় মহাদেশের ১৫০টির বেশি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
/অ