দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রায় ৫০ দিনে বিশ্বজুড়ে ৫০ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষক ও রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এই সংকটের প্রভাব আরও কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংকটের কারণে বৈশ্বিক বাজার থেকে ৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট সরবরাহ কমে গেছে। কেপলার তথ্য অনুযায়ী, এটি আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্ন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিমাণ তেল কমে যাওয়া মানে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য জ্বালানি ব্যবহারে বড় ঘাটতি তৈরি হওয়া। এর প্রভাব পরিবহন, বিমান চলাচল এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যেও পড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্চ মাসে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো প্রতিদিন প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন হারিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশের জেট ফুয়েল রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
কেপলার বিশ্লেষক জোহানেস রাউবাল জানান, গড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার দরে হিসাব করলে এই ঘাটতির আর্থিক ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। এটি জার্মানির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান অথবা ছোট কয়েকটি দেশের মোট অর্থনীতির সমান।
বিশ্লেষণে বলা হয়, এই সংকটের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে। এপ্রিল মাসে বৈশ্বিক অনশোর তেল মজুত প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, বিশেষ করে শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি মেরামতের ক্ষেত্রে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/