দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়ে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের দেওয়া দাবিগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত থাকে, তবেই এই প্রস্তাবটি কার্যকর করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যদি হরমুজ প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে চলাচল করে, তবে ইরান সেসব জাহাজে কোনো ধরনের হামলা চালাবে না।
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হরমুজ প্রণালিটি মূলত পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরকে সংযুক্ত করেছে। এই প্রণালির উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য এই রুটটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পণ্য এই পথ দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। এই তিন দেশের প্রয়োজনীয় জ্বালানি পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। জ্বালানি তেল ছাড়াও সার, রাসায়নিক দ্রব্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য এই দেশগুলো এই জলপথের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা এই অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
স্বাভাবিক সময়ে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমান চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা শুরুর পর ইরান এই পথে অবরোধ জারি করে। এর ফলে জ্বালানি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো দীর্ঘ ঘুরপথে চলতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে, যার ফলে বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বাড়ছে এবং প্রকট সরবরাহ সংকট দেখা দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ইরানের অবরোধের কারণে বর্তমানে হরমুজ এলাকায় কয়েক শত বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়ে আছে। শুধু জাহাজই নয়, এসব যানে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি ক্রু বর্তমানে মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
কে