দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হতে যাওয়া শান্তি আলোচনাকে সামনে রেখে ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
এই প্রস্তাবে তেহরান শুধু নিজেদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিই জানায়নি, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারেরও কড়া শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রকাশ করা এই ১০ দফা পরিকল্পনায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো হরমুজ প্রণালির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ।
ইরান প্রস্তাব দিয়েছে যে, তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে এই প্রণালি দিয়ে নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্যে একটি নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল তৈরিরও দাবি জানানো হয়েছে, যা কার্যকর হলে এই আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।
পাশাপাশি, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব যুদ্ধকালীন ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েন কেন্দ্র থেকে মার্কিন সেনাদের পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান।
এছাড়া হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের মতো নিজেদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর চলমান সব ধরনের হামলার অবসান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে ইরান তাদের বিরুদ্ধে আরোপিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সব নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদ এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব নেতিবাচক প্রস্তাবনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সমস্ত সম্পদ ও সম্পত্তি অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমনকি, বিগত বছরগুলোতে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে হওয়া সব ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ ও দাবি করেছে তেহরান।
ভবিষ্যতে এই চুক্তির যেন কোনো বরখেলাপ না হয়, সেজন্য একটি শক্ত আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা চেয়েছে ইরান। তাদের দাবি, ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনায় যেসব বিষয়ে সমঝোতা হবে, তার প্রতিটিই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি বাধ্যতামূলক রেজুলেশন হিসেবে পাস করাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষই এই চুক্তি থেকে সরে যেতে না পারে।
কে