দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান যুদ্ধ ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির কারণে এ বছর ঈদুল ফিতরের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। লেবানন, গাজা ও ইরানজুড়ে লাখো মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক উৎসব আয়োজন সম্ভব হয়নি।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলি হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে বহু মানুষ খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে। দক্ষিণ বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় হামলার পর সেখানকার বাসিন্দারা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছেন। অনেকেই ঈদের পরিকল্পনা না করে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানেই সময় কাটাচ্ছেন।
লেবাননজুড়ে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। যুদ্ধের অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের ক্ষত এখনও কাটিয়ে উঠতে না পারায় দেশটিতে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়নি।
গাজাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ইসরাইলি অবরোধ ও সংঘাতের কারণে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য ঈদের কেনাকাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িতে বসবাস করছে, আবার অনেকে রাস্তায় বা অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছে।
ইরানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল হামলার প্রভাবেও দেশটির অর্থনীতি চাপে পড়েছে। বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ ঈদের প্রচলিত কেনাকাটা করতে পারছেন না। রাজধানী তেহরানের ঐতিহাসিক বাজার এলাকাও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে স্বাভাবিক কেনাবেচা ব্যাহত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার ঈদের ধর্মীয় তাৎপর্য বজায় রাখার চেষ্টা করলেও যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও বাস্তুচ্যুতির কারণে উৎসবের আনন্দ সীমিত হয়ে গেছে। তবুও কিছু মানুষ পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সংহতিকে টিকিয়ে রাখতে সীমিত পরিসরে ঈদ উদযাপনের চেষ্টা করছেন, যা কঠিন সময়েও তাদের টিকে থাকার মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/