দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনি বর্তমানে কোমায় (অচেতন অবস্থায়) রয়েছেন বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান। ট্যাবলয়েডটির দাবি, নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ৫৬ বছর বয়সী ছেলে (মোজতবা) অন্তত একটি পা হারিয়েছেন এবং তার পাকস্থলী বা লিভারে মারাত্মক আঘাত লেগেছে।
তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মুজতবার ৮৬ বছর বয়সী বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যেদিন মারা যান, সে দিনই তিনি আহত হয়েছিলেন কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় দ্য সান।
এদিকে আজ জাতির উদ্দেশ্যে এক বার্তা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মুজতবা খামেনি। সংবাদ উপস্থাপকের পাঠ করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান তার নাগরিকদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে দ্বিধা করবে না এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
তেহরান থেকে এক সূত্রের বরাতে দ্য সান জানিয়েছে, বর্তমানে সৈয়দ মুজতবা শহরের ঐতিহাসিক এলাকার সিনা ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের একটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের ওই অংশটি সিলগালা করে বিশাল নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘিরে রাখা হয়েছে।
সূত্রটি—যিনি প্রাণভয়ে নাম প্রকাশ করতে চাননি—ইরানের প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটকে ফাঁকি দিয়ে লন্ডনে থাকা এক নির্বাসিত ভিন্নমতাবলম্বীর কাছে এই বার্তা পাঠাতে সক্ষম হন। তিনি নিজে চিকিৎসক না হলেও হাসপাতালের চিকিৎসকদলের সদস্যদের চেনেন। তারা জানিয়েছেন, মুজতবার অবস্থা ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’ এবং তিনি ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা দেশের অন্যতম শীর্ষ ট্রমা সার্জন মোহাম্মদ রেজা জাফারগান্দি-র অধীনে চিকিৎসাধীন।
দ্য সানের সূত্র বার্তায় জানিয়েছেন, ইরানের নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতার একটি বা দুটি পা কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার লিভার অথবা পাকস্থলী ফেটে গেছে। সম্ভবত তিনি কোমায় আছেন।
৭০ বছর বয়সী চিকিৎসক জাফারগান্দি ১৯৮০-র দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় কাজ করে তার দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তিনি নিজেও সেই যুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছিলেন।
ইরানের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে দ্য সান এ তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে না পারলেও যুদ্ধাহতদের তালিকায় মোজতবার অবস্থান এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এখন তাদের এই নীরব উত্তরসূরিকে প্রকাশ্যেই ‘জানবাজ অব রমজান’ (রমজানের যুদ্ধাহত বীর) হিসেবে অভিহিত করছে।