দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং যুদ্ধের দামামার মাঝে নিজেদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর ও পরিষ্কার করল ইতালি। সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে রোম। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার দেশ কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অংশ হতে চায় না এবং কূটনীতিই সংকটের একমাত্র সমাধান।
ইতালির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘আনসা’-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘ইতালি কারও সঙ্গে যুদ্ধে নেই এবং নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ানোর পরিকল্পনাও আমাদের নেই।’
তিনি আরও যোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোই এখন রোমের প্রধান লক্ষ্য, সংঘাত উসকে দেওয়া নয়।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইতালির সংবিধান যুদ্ধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার অনুমতি দেয় না। তিনি বলেন, ‘ইতালি শান্তির পক্ষে। আমরা চাই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরুক এবং কোনো পক্ষই যেন নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায়।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইতালির এই ঘোষণা ইউরোপের অন্যান্য দেশের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, যারা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে দ্বিধান্বিত।
সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও অঞ্চলটিতে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তায় কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত কয়েক হাজার ইতালীয় নাগরিক এবং প্রায় ২ হাজার সেনাসদস্যের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশগুলোতে আক্রমণাত্মক নয়, বরং কেবল ড্রোন ও মিসাইল হামলা ঠেকানোর জন্য 'ডিফেন্সিভ' বা প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম পাঠানোর কথা ভাবছে সরকার।
এছাড়াও সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে সাইপ্রাস উপকূলে নৌ-টহল জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি, যা মূলত আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করা হচ্ছে।
ইতালিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হতে পারে, এমন গুঞ্জন উঠলেও মেলোনি সরকার তা নাকচ করে দিয়েছে। আনসা-র তথ্যমতে, এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ এখনো আসেনি। সরকার স্পষ্ট করেছে, পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া দেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো বিদেশি শক্তিকে আক্রমণ চালাতে দেওয়া হবে না।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ইতালি তার জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে ইরানের সঙ্গে সরাসরি বৈরিতা চাইছে না। এছাড়া লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইতালির অর্থনীতির জন্য অত্যাবশ্যক। যুদ্ধের ফলে শরণার্থী সংকট তৈরি হলে তার প্রথম ধাক্কা ইতালির ওপরই পড়বে, যা এড়াতে চায় মেলোনি সরকার।
ইতালির এই অবস্থানকে মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার টেবিলে সমস্যা সমাধানের এই আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এবি/