দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের বিমান হামলায় বহু হতাহতের পর ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তান। রোববার ভোরে আফগান ভূখণ্ডে একাধিক বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক হামলার পেছনে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ‘ক্যাম্প ও আস্তানা’ লক্ষ্য করে গোয়েন্দাভিত্তিক ও নির্দিষ্ট অভিযান চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠীর সাতটি ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল। খোরাসান প্রদেশে আইএসআইএল-ঘনিষ্ঠ আইএসকেপিও অভিযানের আওতায় ছিল বলে দাবি করা হয়।
মন্ত্রণালয় দাবি করে, ইসলামাবাদ, বাজাউর ও বান্নুতে সাম্প্রতিক হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্বের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে—এমন ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ তাদের কাছে রয়েছে।
অন্যদিকে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নানগারহার ও পাকতিকা সীমান্ত প্রদেশে একটি ধর্মীয় স্কুল ও আবাসিক বাড়িতে হামলার নিন্দা জানায়। এতে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নানগারহারের বিহসুদ জেলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন, তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই এলাকায় একটি ধর্মীয় কেন্দ্রেও হামলার কথা জানিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ। পাকতিকা প্রদেশে হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে বলেছে, বেসামরিক নাগরিক ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার দায় পাকিস্তানকে নিতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সময়ের মধ্যে পরিমিত ও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’
গত বছরের অক্টোবরে সীমান্ত সংঘর্ষে বহু সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর কাতারের মধ্যস্থতায় যে নাজুক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, সাম্প্রতিক হামলা তা হুমকির মুখে ফেলেছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুল বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদ বলছে, দোহা চুক্তি অনুযায়ী আফগান মাটি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি তালেবান দিয়েছিল।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় এক আত্মঘাতী হামলায় দুই সেনা সদস্য নিহত হন। এর আগে বাজাউরে নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ১১ সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় খাদিজা তুল কুবরা মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত হন। ওই হামলার দায় স্বীকার করে আইএসকেপি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে, যার বড় অংশের জন্য টিটিপি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/