দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ডজনখানেক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ও স্থানীয় কর্মকর্তারা। হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
রোববার জানানো হয়, রাতভর চালানো এসব হামলায় রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকা, কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী ওডেসা এবং মধ্য ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দিনিপ্রো, কিরোভোহরাদ, মিকোলাইভ, পোলতাভা ও সুমি অঞ্চলও হামলার শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য ছিল জ্বালানি খাত, তবে আবাসিক ভবন ও রেলপথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘মস্কো কূটনীতির চেয়ে হামলাতেই বেশি বিনিয়োগ করছে।’ তার দাবি, শুধু চলতি সপ্তাহেই রাশিয়া এক হাজার ৩০০টির বেশি ড্রোন, এক হাজার ৪০০টির বেশি নির্দেশিত বিমান বোমা এবং ৯৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক জানান, সেখানে অন্তত একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। পাঁচটি জেলায় এক ডজনের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওডেসার গভর্নর ওলেহ কিপার জানান, রাতের ড্রোন হামলায় জ্বালানি অবকাঠামোয় আগুন লাগে, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী দাবি করেছে, রাতভর হামলায় রাশিয়া ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৯৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৭৪টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই সন্ত্রাস স্বাভাবিক হতে পারে না, এটি থামাতে হবে।’
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ও গ্যাস খাতে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। মস্কো দাবি করে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না; তবে ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা কমাতে বৈধ লক্ষ্য। কিয়েভের অভিযোগ, এসব হামলার উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং দেশের মনোবল ভেঙে দেওয়া।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/