দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করেছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য প্রণীত একটি আইনের আওতায় আরোপ করা এই শুল্ককে বেআইনি ঘোষণা করে আদালত শুক্রবার ঐতিহাসিক রায় দেন।
৬–৩ ভোটে দেওয়া রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ বা আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে আমদানিতে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। আইনে প্রেসিডেন্টকে আমদানি ‘নিয়ন্ত্রণের’ ক্ষমতা দেওয়া হলেও তা শুল্ক আরোপের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করে না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
রায়ে বলা হয়, কংগ্রেস যদি প্রেসিডেন্টকে এমন অসাধারণ ক্ষমতা দিতে চাইত, তবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করত। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে, প্রেসিডেন্টের নয়।
এই রায়ের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায় এবং ডলারের মান কিছুটা কমে। বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী রায়কে স্বাগত জানালেও অনেকে মনে করছেন, নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের চেষ্টা হলে বাজারে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
রায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে একমত হন বিচারপতি নীল গরসাচ ও অ্যামি কোনি ব্যারেটসহ তিন উদারপন্থী বিচারপতি। তবে বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ ভিন্নমত পোষণ করেন। তার সঙ্গে একমত হন ক্ল্যারেন্স থমাস ও স্যামুয়েল আলিটো।
ভিন্নমতে ক্যাভানফ বলেন, আইইইপিএর ভাষা ও পূর্ববর্তী নজির প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপকে সমর্থন করে। তিনি সতর্ক করেন, এই রায়ের ফলে বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন ও বাণিজ্য চুক্তিগুলো নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে শুল্ককে অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। চীন, কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর আইইইপিএর আওতায় শুল্ক আরোপ করেন তিনি। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান শুল্ক বহাল থাকলে আগামী এক দশকে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতে পারত।
তবে আইইইপিএ-ভিত্তিক শুল্ক থেকে আদায় করা প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন।
সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই রায়কে ‘প্রতিটি মার্কিন ভোক্তার জন্য জয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্য আইনি ধারার আওতায় শুল্ক বহাল রাখার বিকল্প পথ খোঁজা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির জন্য বড় ধাক্কাই নয়, বরং ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতার সীমারেখাও স্পষ্ট করে দিল।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/