দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ‘সামরিক আগ্রাসনের বাস্তব হুমকি’ ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে জাতিসংঘকে জানিয়েছে ইরান। সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হলে মধ্যপ্রাচ্যে শত্রুর ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন এক চিঠিতে এমন সতর্কবার্তা দেয়। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড
চিঠিতে বলা হয়, সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে। তবে ইরান যুদ্ধ চায় না।
ইরানের এই প্রতিক্রিয়া আসে ট্রাম্পের সেই সতর্কবার্তার পর, যেখানে তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ইরানকে একটি ‘অর্থবহ চুক্তি’ করতে হবে, না হলে ‘খারাপ কিছু ঘটবে’।
এ সময় তিনি অঞ্চলটিতে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেন।
গাজায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তার উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে একটি অর্থবহ চুক্তি করা বছরের পর বছর ধরে সহজ প্রমাণিত হয়নি। আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তি করতেই হবে, না হলে খারাপ কিছু ঘটবে।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কোনো সমঝোতা না হলে ওয়াশিংটন ‘আরও এক ধাপ এগোতে’ বাধ্য হতে পারে। তিনি যোগ করেন, ‘আগামী প্রায় ১০ দিনের মধ্যে আপনারা জানতে পারবেন।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহ ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘আয়াতুল্লাহরা যদি ভুল করে আমাদের ওপর হামলা করে, তাহলে তারা এমন জবাব পাবে যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।’
এই সতর্কবার্তাগুলো আসে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
এদিকে ওয়াশিংটন অঞ্চলটিতে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। প্রথমে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন প্রায় ৮০টি বিমানসহ ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বলে রোববার স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে।
ইরানও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে।
ইরানি রাজনীতিকরা বারবার হুমকি দিয়েছেন, তারা হরমুজ প্রণালী—যা বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ—অবরুদ্ধ করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের আশঙ্কায় এ সপ্তাহে তেলের দাম বেড়ে গেছে।
এবি/