দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি বর্ণবাদী ভিডিও নিয়ে পরোক্ষভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তিনি এক পডকাস্টে ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে বলেন, একসময় সরকারি কর্মকর্তাদের যে ‘লজ্জাবোধ’ ও ‘শালীনতা’ ছিল, তা এখন অনেকের মধ্যেই আর দেখা যায় না। খবর বিবিসি
আপত্তিকর ভিডিওটিতে ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামা–কে বানর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বিষয়টি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের নেতাদের কাছ থেকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
হোয়াইট হাউস প্রথমে ভিডিওটি সমর্থন করে প্রতিক্রিয়াকে ‘ভুয়া ক্ষোভ’ বলে আখ্যা দেয়। পরে পোস্টটি একজন কর্মীর ওপর দায় চাপিয়ে মুছে ফেলা হয়।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রচারিত পডকাস্টার ব্রেইন টাইলর কোহেন–এর সঙ্গে ৪৭ মিনিটের এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ওই ভিডিও প্রসঙ্গে কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে কোহেন ট্রাম্পের ওই পোস্টসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন। ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা ভিডিও ক্লিপটিতে ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়। ভিডিওটি কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের বানরের সঙ্গে তুলনা করার পুরোনো বর্ণবাদী কার্টুনের কথা মনে করিয়ে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, এটি রক্ষণশীল মিম নির্মাতা জেরিয়াস–এর অক্টোবর মাসে শেয়ার করা একটি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট থেকে নেওয়া।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ভিডিওর যে অংশে ওবামাদের দেখানো হয়েছিল, তা তিনি ‘দেখেননি’। তিনি দাবি করেন, ‘আমি কোনো ভুল করিনি।’ তবে ক্ষমা চাইবেন কি না—সে প্রশ্নে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।
পডকাস্টের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ‘আলোচনার ধরন’ নিয়ে মন্তব্য করতে বলা হলে ওবামা বলেন, তা ‘এমন এক নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে নেমে গেছে, যা আমরা আগে দেখিনি।’ কোহেন সরাসরি উল্লেখ করেন, ‘মাত্র কয়েক দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প আপনার মুখ একটি বানরের দেহে বসিয়ে ছবি পোস্ট করেছেন।’
জবাবে ওবামা বলেন, ‘এটা স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ যে অধিকাংশ আমেরিকান জনগণ এ ধরনের আচরণকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক মনে করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিষয় মনোযোগ আকর্ষণ করে, আবার মনোযোগ ভিন্ন দিকেও সরিয়ে দেয়।’
ওবামা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এখনো অনেক মানুষ আছেন, যারা ‘শালীনতা, ভদ্রতা ও সৌজন্যে’ বিশ্বাস করেন। তবে তার ভাষায়, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনে যেন এক ধরনের ভাঁড়ামো চলছে। আর যারা একসময় মনে করতেন যে একটি পদে থেকে শালীনতা, সংযম ও সম্মানবোধ থাকা উচিত—তাদের মধ্যে এখন আর সে ধরনের লজ্জাবোধ দেখা যাচ্ছে না। সেটা হারিয়ে গেছে।’
যদিও পুরো বক্তব্যে তিনি ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তার মন্তব্যকে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এবি/