দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানে সপ্তাহব্যাপী হামলা চালিয়ে যাওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে এই অভিযান কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘ হতে পারে। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ভয়াবহ সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব বিকল্প খোলা আছে। তিনি বিভিন্ন মতামত শোনেন, তবে দেশের নিরাপত্তার জন্য যেটি সর্বোত্তম মনে করেন সেটিই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পেন্টাগন। কর্মকর্তাদের মতে, এবারকার পরিকল্পনা আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। এক কর্মকর্তা জানান, ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। তবে তিনি বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি।
আরেক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ধরেই নিয়েছে ইরানও পাল্টা আঘাত হানবে। ফলে কিছু সময় ধরে আক্রমণ ও প্রতিশোধের ধারাবাহিকতা চলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি অনেক বেশি থাকবে। কারণ ইরানের কাছে বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে। ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিশোধ বা আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানের পারমাণবিক, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধান না হলে বিকল্প হবে ‘খুবই ভয়ানক’।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এ ছাড়াও পাল্টা হামলায় ইসরায়েল প্রথম লক্ষ্যবস্তু হবে বলে সতর্ক করেছে।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তাতে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পর নতুন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে গত সপ্তাহে ওমানে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি পারমাণবিকচালিত বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। এর সঙ্গে আরও হাজার হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান, ডেস্ট্রয়ার ও প্রতিরক্ষায় সক্ষম অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে।
উত্তর ক্যারোলিনার একটি সামরিক ঘাঁটিতে সেনাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে ‘চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনও কখনও ভয় দেখাতেই হয়, এটাই পরিস্থিতি সমাধানের একমাত্র উপায়।’
২০২৫ সালের জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী জাহাজ পাঠিয়েছিল পেন্টাগন। হামলার জবাবে কাতারে অবস্থিত আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পরিসরে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় আইআরজিসি।
এমএস/