দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা সেবা পৌঁছাতে অবিলম্বে পথ খুলে দিতে ইসরায়েলের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। রাফাহ সীমান্ত দিয়ে চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে চাওয়া বহু ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনও আটকে রাখছে এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার এই আহ্বান জানান তিনি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বক্তব্য দেওয়ার সময় গুতেরেস বলেন, রাফাহ সীমান্তসহ সব পথে দ্রুত ও বাধাহীনভাবে বৃহৎ পরিসরে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। একই দিন গাজা ও মিসরের মধ্যকার সদ্য পুনরায় খোলা রাফাহ ক্রসিংয়ে শতাধিক অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি বিদেশে চিকিৎসার আশায় জড়ো হয়।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি জানান, মঙ্গলবার মাত্র ১৬ জন ফিলিস্তিনিকে মিসরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর আগের দিন মাত্র পাঁচজনকে গাজা ছাড়তে দেওয়া হয় এবং ১২ জনকে গাজায় ফিরতে দেওয়া হয়েছিল। অথচ ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছিলেন, প্রতিদিন উভয় দিকে ৫০ জন করে যাতায়াতের সুযোগ থাকবে।
খুদারি বলেন, রাফাহে কেন এত দেরি হচ্ছে তার কোনো ব্যাখ্যা নেই এবং পুরো প্রক্রিয়াটি অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সীমান্ত পার হতে গিয়ে ফিলিস্তিনিদের সব ধরনের মালপত্র ফেলে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্রায় দুই বছর ধরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে এই সীমান্তটি কার্যত বন্ধই ছিল।
তার মতে, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ জরুরি চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই খান ইউনুসের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১৯ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যদিও গত অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। নাসের হাসপাতালের তথ্যমতে, নিহত যুবক এমন একটি এলাকায় ছিলেন যা ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মধ্য অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২৯ জনে।
ইসরায়েলের আগের হামলায় গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল ও চিকিৎসা অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় গুরুতর আহত ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীরা ভেতরে কার্যত কোনো বিকল্প পাচ্ছেন না। ৩৭ বছর বয়সী শাদি সোবোহ জানান, হাড় প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারের জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেয়েও তিনি ১০ মাস ধরে অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব কি তার পা কেটে ফেলার অপেক্ষায় রয়েছে।
গাজা সিটির আল শিফা হাসপাতালের পরিচালক মুহাম্মদ আবু সালমিয়া ইসরায়েলের প্রতি দ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ ঢোকার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রোগীদের বাইরে নেওয়া বন্ধ রাখা এবং ওষুধ প্রবেশে বাধা দেওয়া তাদের জন্য কার্যত মৃত্যুদণ্ডের শামিল।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ অনুযায়ী অক্টোবরের মাঝামাঝি রাফাহ সীমান্ত খোলার কথা ছিল। তবে গাজায় আটক ইসরায়েলি বন্দিদের মরদেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল সীমান্ত খুলতে অস্বীকৃতি জানায়। সর্বশেষ মরদেহ ২৬ জানুয়ারি পাওয়ার পর সীমান্ত আংশিকভাবে পুনরায় চালু হলেও চিকিৎসা যাতায়াত এখনও সীমিতই রয়ে গেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/