দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব—এমনটাই দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ওয়াশিংটনে এক গোপন বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তাদের জানান, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত স্পষ্ট লক্ষ্য ও সুসংহত পরিকল্পনা নির্ধারণ করা।
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রিন্স খালিদ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি এই পর্যায়ে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশ না দেন, তাহলে তেহরানের শাসনব্যবস্থা আরও উৎসাহিত হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, ‘এখন যদি এটি না ঘটে, তাহলে তা শাসনব্যবস্থাকে আরও সাহসী করে তুলবে।’
তবে বৈঠক সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র দ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে জানিয়েছে, প্রিন্স খালিদের মন্তব্যগুলোকে সরাসরি হামলার আহ্বান হিসেবে না দেখে বরং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাননীতি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার তাগিদ হিসেবে বোঝা উচিত।
সূত্রটি আরও জানায়, তিনি সতর্ক করে বলেছেন—কোনো সুপরিকল্পনা ছাড়া ইরানে হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এই মন্তব্যগুলো ইঙ্গিত দেয়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়লেও ইরানের ওপর সামরিক হামলার প্রশ্নে সৌদি আরব আগের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত আরেকজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, মার্কিন হামলার খারাপ পরিণতি হতে পারে। তবে হামলা না হলে ‘ইরান এই পরিস্থিতি থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে আসবে।’
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি লেখেন, ‘সৌদি ছেলেদের তো বিষয়টি জানারই কথা।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। একইসঙ্গে সৌদি কর্মকর্তারা কূটনৈতিক সমাধানের ওপর তাদের অগ্রাধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
অ্যাক্সিওস আরও দাবি করেছে, সৌদি আরবের এই সতর্ক অবস্থানই ট্রাম্পকে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করতে প্রভাবিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ব্রিফিংয়ে প্রিন্স খালিদ এসব মন্তব্য করেন, সেখানে প্রায় ১৫ জন মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ এবং পাঁচটি ইহুদি সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউসে মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেন তিনি।
অ্যাক্সিওসের মতে, ওয়াশিংটন ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প প্রশাসনের ইরাননীতি নিয়ে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মনে অনিশ্চয়তা রয়ে যায়।
এদিকে শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়েছেন চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য, তবে সেই সময়সীমার দৈর্ঘ্য প্রকাশ করেননি।
এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘ইরান সব সময়ই চুক্তি করতে চায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কী ধরনের চুক্তি? ইরান কী চায়, আর যুক্তরাষ্ট্র কী মেনে নিতে প্রস্তুত? এই মুহূর্তে আমরা দেখছি না যে এই দুটো এক জায়গায় মিলছে।’
এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করছেন, তবে ইরানে হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন—ইরান যদি অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারে। যদিও বর্তমানে সেই বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ইতিমধ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমা আরোপ এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার থাকতে হবে। তবে তেহরান এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।
অ্যাক্সিওস আরও জানায়, বৈঠকে সৌদি আরব ইসরায়েল থেকে সরে গিয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের দিকে ঝুঁকছে—এমন সমালোচনার জবাবে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তা নাকচ করেন। বৈঠকে উপস্থিত একজনের ভাষায়, ‘তিনি কয়েকবার বলেছেন—এটা সম্পূর্ণ অর্থহীন কথা। কিন্তু যত বেশি তিনি তা বলছিলেন, তত কম বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছিল।’
এবি/