দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক অভিযানের মুখে পড়ার চেয়ে ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, যদিও তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কখনোই আলোচনার টেবিলে তোলা হবে না।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ানো প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটুকু বলতে পারি, তারা সমঝোতা করতে চায়’, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এর আগে বুধবার তিনি তেহরানকে সতর্ক করে বলেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। একই সময় ইরানের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় নৌবহর জড়ো করা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নির্ধারিত নেই, তবে পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। একই দিনে রাশিয়ার ক্রেমলিন জানায়, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তি জানিয়েছে, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইরান বারবার বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তারা অস্বীকার করে আসছে। শুক্রবার ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তেহরানকে কোনো সময়সীমা দিয়েছেন কি না, তিনি বলেন, ‘এটা শুধু তারাই নিশ্চিতভাবে জানে’।
তিনি বলেন, ‘আশা করি আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। যদি পারি, সেটাই ভালো। যদি না পারি, তাহলে কী হয় তা দেখা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, একটি বড় ‘আর্মাডা’ ওই অঞ্চলের পথে রয়েছে এবং কবে তা প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা নেই।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কখনোই আলোচনার অংশ হবে না এবং সরকারের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। ইস্তাম্বুলে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ন্যায্য ও সুবিচারভিত্তিক আলোচনার জন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সতর্কতা আসে ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে কঠোর দমন–পীড়নের প্রেক্ষাপটে। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় হস্তক্ষেপ করবে এবং দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, সামরিক অভিযান এড়াতে ইরানকে দুটি শর্ত মানতে হবে, এক, পারমাণবিক অস্ত্র পরিহার করতে হবে এবং দুই, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে অস্থিরতা শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিহত হওয়ার তথ্য তারা নিশ্চিত করেছে, যাদের মধ্যে ৫ হাজার ৯০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী। ইন্টারনেট বন্ধ থাকার মধ্যেও আরও ১৭ হাজার মৃত্যুর খবর তারা খতিয়ে দেখছে। নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস সতর্ক করেছে, নিহতের মোট সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/