দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চীনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের জেনারেল ঝাং ইউশিয়াকে বরখাস্ত করেছে চীন সরকার। শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এ জেনারেলের বিরুদ্ধে ‘শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের’ অভিযোগ উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, জেনারেল ঝাং ইউশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক অস্ত্র–সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস এবং সামরিক পদোন্নতির বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জেনারেল ঝাং ইউশিয়া চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈঠকে তার বিরুদ্ধে এসব গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়।
শনিবার চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ঝাং ইউশিয়া এবং সিএমসির যৌথ স্টাফ বিভাগের প্রধান জেনারেল লিউ ঝেনলির বিরুদ্ধে ‘শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের সন্দেহে’ তদন্ত চলছে।
তবে সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তাদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ঝাংয়ের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের মূল প্রযুক্তিগত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাচার এবং সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার ভেতরে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঝাংয়ের বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টির ঐক্য ক্ষুণ্ন করে এমন রাজনৈতিক গোষ্ঠী গড়ে তোলা এবং সিএমসির ভেতরে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। সিএমসি হলো চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা।
কর্তৃপক্ষ তার তত্ত্বাবধানে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার কর্মকাণ্ডও খতিয়ে দেখছে—যেটি অস্ত্র গবেষণা, উন্নয়ন ও ক্রয়ের দায়িত্বে ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তিনি ঘুষের বিনিময়ে পদোন্নতির অনুমোদন দিয়েছিলেন।
এই মামলার প্রমাণের একটি অংশ এসেছে গু জুনের বিরুদ্ধে চালানো তদন্ত থেকে। গু জুন ছিলেন চায়না ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান—এই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি চীনের বেসামরিক ও সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি তদারকি করে।
এই সপ্তাহের শুরুতে বেইজিং ঘোষণা দেয়, গু জুন গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তদন্তাধীন। পরে কর্মকর্তারা জানান, এই তদন্তের সঙ্গে পারমাণবিক খাতে একটি নিরাপত্তা লঙ্ঘনের যোগসূত্র রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেন, এই তদন্ত বেইজিংয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতিফলন।
ঝাং ইউশিয়াকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র হিসেবে দেখা হতো। তিনি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য এবং চীনের হাতে গোনা কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার একজন, যাদের বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি ১৯৭৯ ও ১৯৮৪ সালে ভিয়েতনামের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে অংশ নেন। স্বাভাবিক অবসর বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাকে সিএমসিতে রেখে দেওয়া হয়েছিল—যা মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, শি জিনপিং তার ওপর কতটা নির্ভর করতেন তারই প্রমাণ।
৭৫ বছর বয়সী ঝাং ইউশিয়া চীনের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার জেনারেল। ঝাং শেংমিনের পাশাপাশি তিনিও সিএমসির ভাইস-চেয়ারম্যান ছিলেন। আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দুর্নীতির অভিযোগে সরিয়ে দেওয়ার পর ঝাং শেংমিনকে গত বছরই পদোন্নতি দেওয়া হয়।
এই দুই ভাইস-চেয়ারম্যানই শি জিনপিংয়ের অধস্তন, যেখানে শি ২০১২ সাল থেকে সিএমসির চেয়ারম্যান।
এবি/