দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘নৌবহর’ ইরানের দিকে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি আশা করছেন সেটি ব্যবহার করতে হবে না।
একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করার বিষয়ে নতুন করে সতর্ক করেন।
স্থানীয় বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান
ট্রাম্প বলেন, ‘একটি আমেরিকান নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।’
তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া কী রকম হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, তার জবাব দেবে তেহরান।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিহতের সংখ্যা ৫,০০২ জনে পৌঁছেছে। তবে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি স্বীকার করেছেন, যে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘ওই দিকটায় আমাদের অনেক জাহাজ যাচ্ছে, সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে। আমি চাই না কিছু ঘটুক, কিন্তু আমরা তাদের খুব কাছ থেকে দেখছি… আমাদের একটি নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে, আর হয়তো সেটি ব্যবহার করতেই হবে না।’
গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং একাধিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা। অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে, সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিগুলোর আশপাশে।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, দোহার অনুরোধে তারা কাতারে আরএএফ-এর ১২ স্কোয়াড্রনের ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠাবে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শুক্রবার রয়টার্সকে বলেন, ‘ইরানের ওপর যেকোনো হামলাকে আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করব এবং সবচেয়ে কঠোরভাবে জবাব দেব।’
এই মন্তব্যটি আসে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী বহর পৌঁছানোর আগেই।
দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্প ইরানে হামলা থেকে সরে আসেন, যদিও তিনি বলেছিলেন সহায়তা আসছে। মূলত তিনি মনে করেছিলেন, তেহরানে সরকার পরিবর্তন নিশ্চিত করার মতো কোনো সামরিক বিকল্প তাকে দেওয়া হয়নি। উপসাগরীয় দেশগুলোও তাকে সংযত থাকতে অনুরোধ করেছিল।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানে বিক্ষোভ দমনে নিহতের সংখ্যা ৫,০০২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪,৭১৬ জন বিক্ষোভকারী, সরকার-সম্পৃক্ত ২০৩ জন, ৪৩ জন শিশু এবং বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া ৪০ জন বেসামরিক নাগরিক।
এবি/