দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানে রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করায় দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেদিন তিনি ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের মার-আ-লাগো এস্টেটে সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে যাচ্ছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান ৮০০–এর বেশি মানুষকে ফাঁসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। তারা এটি বাতিল করায় আমি গভীরভাবে সম্মান জানাই।’
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানে ৮০০–এর বেশি মানুষকে ফাঁসি দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখন তা আর হচ্ছে না।’
পোস্টে তিনি শুধু লেখেন, ‘ধন্যবাদ!’
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন এর আগের কয়েক দিন ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—ইরানে চলমান বিক্ষোভের সময় যদি সরকার ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালাতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ওই বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে।
বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে বলে মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করলেও, ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি যেন বোঝাতে চেয়েছেন, ফাঁসি কার্যকর না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনাও কমে গেছে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে লিখেছিলেন, ‘সাহায্য আসছে।’ তবে শুক্রবার যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে সেই প্রতিশ্রুতি এখনও বহাল আছে কি না, তখন তিনি উত্তর দেন, ‘দেখা যাক কী হয়।’
আরব ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা তাকে ইরানে হামলা না চালাতে রাজি করিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ আমাকে বোঝায়নি। আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘গতকাল ৮০০–এর বেশি ফাঁসি নির্ধারিত ছিল। তারা কাউকেই ফাঁসি দেয়নি। এটা বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি বড় প্রভাব ফেলেছে।’
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি, ইরানে কার সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর দুর্বল অর্থনীতি নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধেও রূপ নেয়। তবে বর্তমানে তেহরানে কয়েক দিন ধরে কোনো বিক্ষোভের চিহ্ন নেই। কেনাকাটা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই ফিরে এলেও প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। দেশের অন্য এলাকাতেও অস্থিরতার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি শুক্রবার জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৭ জনে, যা এখনও বাড়ছে।
অন্যদিকে, নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: এপি
/অ