দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। এই ঘাঁটিটি ইরানের সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার একটি জরুরি সতর্কতা জারি করে তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাতে আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করেছে। এর মধ্যে ছিল আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমান কেসি-১৩৫ এবং বি-৫২ কৌশলগত বোমারু বিমান।
দোহার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিতে ১০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এটি অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি। ঘাঁটিটিতে ৪ হাজার ৫০০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে, যা বি-৫২ কৌশলগত বোমারু বিমান ও বড় পরিবহন বিমানের মতো ভারি সামরিক উড়োজাহাজ ওঠানামার উপযোগী।
এদিকে ইরানে সামরিক ও সাইবার হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) দুই কর্মকর্তা বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে জানান, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের জন্য ট্রাম্পকে নানা ধরনের গোপন ও সামরিক কৌশল সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনো একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে রয়েছে। পাশাপাশি পেন্টাগনের কর্মকর্তারা সাইবার হামলা এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রচারাভিযানের মতো পদক্ষেপও উপস্থাপন করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই সূত্র সিবিএসকে আরও জানান, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক প্রতিক্রিয়ায় সম্ভবত বিমান হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের কমান্ড কাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সাইবার হামলার বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।
এছাড়া হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সোমবার বলেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কূটনীতিই এখনো অগ্রাধিকারমূলক পথ, তবে প্রয়োজনে সামরিক হামলার সম্ভাবনা বাতিল করছে না ট্রাম্প প্রশাসন।
ফক্স নিউজকে লেভিট বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময়ই বলেছেন যে কূটনীতিই প্রথম বিকল্প। তবে প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও বলপ্রয়োগে পিছপা নন।’
এদিকে সোমবারই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
জরুরি সতর্কবার্তায় পররাষ্ট্র দপ্তর মার্কিন নাগরিকদের এমনভাবে ইরান ত্যাগের পরিকল্পনা করতে বলেছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে না হয়। যারা ইরান ত্যাগ করতে পারছেন না, তাদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং পানি, খাদ্য ও ওষুধসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এবি/